রসিক নির্বাচন
তিন হেভিওয়েট প্রার্থীর যত উন্নয়নের ফুলঝুড়ি
রবিউল ইসলাম দুখু, রংপুর
অ+ অ-প্রিন্ট
আর ৬ দিন পরেই রংপুর সিটি করপোরেশন(রসিক) এর  ভোট।  মেয়র পদে এগিয়ে থাকা  ৩ হেভিওয়েট প্রার্থী ভোটারদের উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রতি দিচ্ছেন। বিশেষ করে বড় তিন দলের তিন প্রার্থী রংপুরে গ্যাস সংযোগের ব্যবস্থা করাসহ রংপুরকে আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলা, শ্যামাসুন্দরী খালের উন্নয়ন, কলকারখানা গড়ে তোলার মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণের কথা বলছেন। আবার কেউ বলছেন মেয়র নির্বাচিত হতে পারলে তার প্রথম কাজ হবে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা। নির্বাচনে মেয়র পদে সাত প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিুতা করছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পাটি মাঠ দাপিয়ে বেডাচ্ছে। প্রচারণায় এগিয়ে এই তিন হেভিওয়েট প্রার্থী।

আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী শরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু বলেছেন,আমার সময়ে ২৯১ কোটি টাকার কাজ হয়েছে। প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ৩শত কোটি টাকার কাজ । ভোটাররা আমার অতীতের কর্মকান্ড বিবেচনা করে  ভোট দেবেন বলে আমার বিশ্বাস। আমার কাজ বিবেচনা করেই অতীতে ভোটাররা আমাকে নির্বাচিত করেছিলেন। আশা করি, এবারও জনগণ আমাকে বিমুখ করবে না। কারণ আমি উন্নয়নের রাজনীতি করি।

ঝন্টু বলেন, আমি আওয়ামীলীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী হয়ে রংপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন করছি। বিগত সময়েও এই সরকারের আমলে সিটি করপোরেশনের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। এবার মেয়র নির্বাচিত হতে পারলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতেই নগরবাসীর জন্য কাজ করব। 

এক প্রশ্নের জবাবে ঝন্টু বলেন, রংপুরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি গ্যাস সংযোগের ব্যবস্থা করাই হবে আমার প্রথম কাজ। রংপুর পৌরসভার সঙ্গে অনেক গ্রাম এলাকা নিয়ে সিটি গঠিত হয়েছে, যেগুলোতে এখনো রাস্তাঘাট পর্যন্ত নেই। এসব এলাকাকে নগরের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার জন্য রাস্তা ঘাটের উন্নয়নও হবে সমানভাবে।

নৌকার বিজয় সম্পর্কে ঝন্টু বলেন, একসময় এখানকার মানুষ নৌকা মার্কার শ্লোগান দিতে ভয় পেত, বিশেষ করে লাঙ্গল মার্কা একসময় নৌকার গলা টিপে ধরেছিল। সেই অবস্থার এখন পরিবর্তন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নে বদলে গেছে রংপুর। ফলে এখন ছোট ছোট বাচ্চার মুখেও জয় বাংলা ও নৌকা মার্কার শ্লোগান শোনা যাচ্ছে। জনগণের এই পরিবর্তনের ফলে আমি আশাবাদী, এবার নৌকা মার্কা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে। 

জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী মো¯াফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, মেয়র হতে পারলে আমার প্রথম কাজ হবে নবগঠিত এই নগরীর নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা, যদিও অনেকটা গ্রামাঞ্চল নিয়ে সিটি গঠন করা হয়েছে। তাই সেগুলোর উন্নয়ন করা কঠিন হবে। তবে আমি ওই সব মানুষের সর্বশেষ প্রতিনিধি। তাই আমার জন্য সমস্যা হবে না। জনগণই আমার শক্তি, তাদের সেবা করতে গিয়ে আমার যেটা করা উচিত, তাই আমি করব। চেষ্টা করব যাতে নগরীর শান্তি-শৃঙখলা বজায় থাকে এবং শিক্ষা-সংস্কৃতির প্রসার যাতে বৃদ্ধি করা যায়। সিটি করপোরেশনকে করা হবে জনগণের সত্যিকারের সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে। বিজয়ী হলে সর্ব প্রথম যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাব। এরপর নজরদেব যানজট নিরসনে। পর্যায়ক্রমে স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধান করব। 

সিটি করপোরেশনকে মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চান মো¯ফা। নির্বাচনী পরিবেশ সম্পর্কে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। রংপুরের মানুষ শান্তি প্রিয়। আশা করি, শান্তি পূর্ণভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তবে এ জন্য সরকারকে আন্তরিক হতে হবে। 

স্বতন্ত্র প্রার্থী জাতীয় পাটির চেয়ারম্যান এরশাদের ভাতিজা হোসেন মকবুল শাহরিয়ার আসিফের কারণে তার ভোটে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে দাবি করেন মোস্তফা। তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে লাঙ্গল মার্কা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবে।

নির্বাচনী ইশতেহার প্রসঙ্গে মোস্তফা বলেন, ইশতেহার তৈরি করেছি। এখনো তা জনগণের মাঝে প্রকাশ করি নি, তবে করব। 

অন্য মেয়র প্রার্থী বিএনপির কাওছার জামান বাবলা। তিনি বলেন, মেয়র নির্বাচিত হলে নগরীর অন্যতম সমস্যা শ্যামাসুন্দরী খালের উন্নয়নসহ কলকারখানা গড়ে তোলার মাধ্যমে বেকারত্ব দূরীকরণে কাজ করবেন। 

বাবলা বলেন, রংপুর সিটি নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু করতে সেনা মোতায়েনের বিকল্প নেই বলে তিনি মনে করেন। নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হলে রংপুরের জনগণ ধানের শীষে ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করবেন। 

  বাবলা  বলেন, নগরীর বর্ধিত এলাকার রাস্তাঘাটের বেহাল দশার কারনে সেখানকার মানুষ কষ্টে আছেন।  মেয়র নির্বাচিত হলে বর্ধিত এলাকার রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করবেন। নগরীর বেহাল সড়কের সংস্কার করে যানজট নিরসন করবেন।  তিনি বলেন,  শ্যামাসুন্দরী এখন মৃত প্রায়। খালটির পুরো এলাকা জুড়ে গড়ে উঠেছে মশার কারখানা।  তিনি নির্বাচিত হলে সংস্কার করবেন শ্যামাসুন্দরী খালের।   গ্যাস নিয়ে আসার চেষ্টা করে যাবেন।  শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নিবেন। তবেই বেকার সমস্যার সমাধান হবে। 

রংপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা জি এম সাহাতাব উদ্দিন জানান,   মাঠে   রয়েছে ১১টি ভিলেজেলেন্স টিম। নির্বাহী ম্যাজিসেট্রটরা এসব টিমের  নেতৃত্ব রয়েছেন। আচারণ বিধি লঙ্ঘনকারী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে তৎক্ষনাথ আইনগত ব্যবস্থা নেবেন তারা। এ ছাড়া ভোট গ্রহনের দিন ৩৩টি ওয়ার্ডের প্রতিটিতে একটি করে ভিজিলেন্স টিম দায়িত্ব পালন করবে বলে জানান রির্টানিং কর্মকর্তা। রংপুরের আঞ্চলিক  নির্বাচন কর্মকর্তা  সুভাস চন্দ্র সরকার জানান,  রংপুর সিটি করপোরেশন  নির্বাচনে ৪ স্তরের নিরাপত্তা  ব্যবস্থা  থাকবে। ৪৪ জন ম্যাজিস্ট্রে নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবেন। তাছাড়াও থাকবে পুলিশ,  র‌্যাব, বিজিবি, আনসারসহ  বিভিন্ন গোয়েন্দতা সংস্থার সদস্যরা।  অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে সব ধরনের উদ্যোগই  নেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ২৮ জুন প্রতিষ্ঠিত হয় রংপুর সিটি করপোরেশন। বর্তমানের এর আয়তন ২০৫. ৭৬ কিলোমিটার। জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ লাখ  ৯৬ হাজার ৫শত  ৫৬ জন। এর মেধ্য ৩ লাখ ৫৮ হাজার ভোটার রয়েছে । মোট ১৯৩টি ভোট কেন্দ্রের ১ হাজার ১শত৭৭টি ভোটকক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ইসির তথ্য অনুযায়ী আগামী ২১ ডিসেম্বর  অনুষ্ঠিত হবে ভোট। 

 

১৪ ডিসেম্বর, ২০১৭ ২৩:৫৬:২২