কক্সবাজারে শুঁটকি উৎপাদনের ধুম, রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও
শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার
অ+ অ-প্রিন্ট
গভীর সাগরে মাছ ধরা শেষে ট্রলারগুলো এসে ভিড়ে কক্সবাজারের নাজিরার টেক উপকূলে। ট্রলারের খাঁচাগুলো নামিয়ে মজুত করা হয় মহালে। তবে বিক্রির জন্য নয়, শ্রমিকরা সেই কাঁচা মাছ কেটে কুটে পরিষ্কার করে টাঙিয়ে দিচ্ছেন বাঁশের মাচায়। রোদে শুকিয়েই মাচায় তৈরি হচ্ছে শুঁটকি। এটি হচ্ছে এশিয়ার সর্ববৃহৎ শুঁটকি উৎপাদন কেন্দ্র নাজিরার টেকের প্রতিদিনের দৃশ্য।

কক্সবাজার উপকূল জুড়ে এখন চলছে শুঁটকি উৎপাদনের ধুম। কাঁচা মাছ প্রক্রিয়াজাত থেকে শুরু করে শুঁটকি হওয়া পর্যন্ত কয়েক’শ মহালে কাজ করছে বিপুল সংখ্যক নারী ও পুরুষ শ্রমিক। এই শুটকি দেশের চাহিদা মিটিয়ে রপ্তানি হচ্ছে বিদেশেও। 

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অবকাঠামো সমস্যাসহ শুঁটকি পরিবহনের ক্ষেত্রে পথে পথে হয়রানি শিকার হচ্ছেন তারা। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, এশিয়ার বৃহত্তম নাজিরারটেক শুঁটকি পল্লী। শীত মৌসুমে শুটকি উৎপাদন হয় বলে এই এলাকায় এখন বেড়েছে ব্যস্ততা। ছুরি, লইট্টা, চাপা, মাইট্টা,গুইজ্জা, চিংড়ি, পোপা, রুপচান্দা ও সুরমা সহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শুকানো হয় নানা প্রক্রিয়ায়। শ্রমিকদের পাশাপাশি ব্যস্ত মহাল মালিকরাও। শীতের পরই সামনে রয়েছে দুর্যোগ মৌসুম। তাই শঙ্কার পাশাপাশি শুঁটকি উৎপাদনে সরকারী পৃষ্টপোষকতা প্রয়োজনের কথাও বলছেন শুটকি ব্যবসায়ি, শ্রমিক ও মহাল মালিককরা। 

কক্সবাজার  পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আকতার কামাল, সরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে এশিয়ার বৃহত্তম নাজিরারটেক শুটকি মহালের আধুনিকায়ন করা গেলে আরও বেশী শুঁটকি বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব।

শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকারী ব্যবসায়ী সমিতির নেতা জয়নাল আবেদীন হাজারীর দেয়া তথ্য মতে, গত বছর দেশে প্রায় ৩’শ কোটি টাকার শুঁটকি উৎপাদন হয়েছে আর বিদেশে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ২’শ কোটি টাকার শুঁটকি।

 

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৭ ০৮:১৮:৫২