রক্তদাতার সংখ্যা বাড়ছে, রংপুরে ৫৮ যুবকের ৪ বছরে ২৪০ জনকে রক্তদান
রবিউল ইসলাম দুখু, রংপুর
অ+ অ-প্রিন্ট
রংপুরের কুটির পাড়া, মন্ডলপাড়া, টিবি হাসপাল কলোনী, রবাটসনগঞ্জ, পাটবাড়ি, দখিগঞ্জ এবং তাঁতিপাড়া এই ৭ এলাকার ৫৮জন যুবক ৪ বছর ধরে  রক্তদান করে  এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছেন। এ পর্যন্ত তারা প্রসবজনিত, বক্ত ক্যান্সার, কিডনি ড্যামেজ এবং  রক্ত শূন্যতাসহ অন্যান্য  ২৪০ জনেররও বেশি   মুমূর্ষু রোগীকে  রক্তদান করেছেন। দিন যতই যাচ্ছে রক্ত দাতার সংখ্যা ততই বাড়ছে।  যা দেশে অনুকরনীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।  

৪ বছরের যারা রক্তদান করেছেন তারা হলেন--মাহমুদ কামাল নয়ন (ওপজেটিভ) ১২বার, শাহেবাল (বি পজেটিভ) ৯বার,  গালিব হোসেন (এ পেিজটিভ)৮বার,  সবুজ মিয়া (এ পজেটিভ) ৭বার, মাহমুদ  সাগর(বি পজেটিভ) ৫বার,  মিলনমিয়া(এ পজেটিভ)৩বার, ফেরদৌস আলম (বি পজেটিভ) ৪বার,  মিলন মিয়া  (বি পজেটিভ)৫ বার,  রকি মিয়া ( এ পজেটিভ) ৩ বার,  সোহাগ ( ও পজেটিভ) ৩বার, হারুন অর রশিদ ( এ পেিজটিভ)৬বার, মনিরুজ্জমান সুইডেন( বি পজেটিভ)৫বার,  আবু হানিফ  ( এ পজেটিভ) ২বার,  মুক্তার আলী( এবি পজেটিভ) ৩বার,  রাজু আহম্মেদ( ও পজেটিভ) ৩বার,  হিমেল মিয়া ( এ পজেটিভ) ৫বার। এছাড়াও  ৩ বার থেকে ৭ বার পর্যন্ত যারা রক্ত দান করেছেন-  তারা  হলেন-  মালেকুল,  সিহাব, দিনার, জাফর, মারুফ, আরিফ,  মিল্টন, সুজন, টিটু, আরমান, জনি, সিহাব, বাবু, আলতাফ,  শাহজাহান, মশিউর,    আকরাম,  সোহেল প্রমুখ। 

যেভাবে শুরু: মাহমুদ কামাল নয়ন  ২০১৪ সালের  জানুরী মাসে  রক্ত শ্যূতায় আক্রান্ত  এক রোগীকে  রক্ত দেন। ২ বার দেয়ার  পর  তা বাইরে  প্রচার হয় । যাদের রক্ত প্রয়োজন হয়  তারা তার কাছে চলে আসে। তার গ্রুপের সঙ্গে মিললে  তিনি রক্ত দেন । না মিললে  এলাকার যুবকেদের সাথে যোগাযোগ করেন। যার গ্রুপের সাথে মিলে যায় তার রক্ত দেয়ার ব্যবস্থা করে দেন। ২৩ মাসের মধ্যে বেশ সারা পড়ে যায়। তিনি “ একটু দান করুন একটু দেখুন“ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে   ৭ এলাকার  কয়েকজন যুবকে নিয়ে একই সনের  জুন মাসে  ‘ব্লাড গোল্ড‘ নামে একটি  নংগঠন করেন।  এই  সংগঠনের আত্মপ্রকাশের পর  ব্যাপক সাড়া পড়ে যায়। ৩ মাসের মধ্যেও  এর সদস্য সংখ্যা ৫৮ জনে দাঁড়ায়। যাদের বয়স ২০এর ওপরে। এ পর্যন্ত তারা ৩০০ জনেরও বেশি ব্যাক্তিকে রক্ত দান করেছেন। 

৫৮ জনেরই  রক্তের গ্রুপ  ও মোবইল নম্বর আছে  নয়নের কাছে। কোন মুমুর্ষ রোগীর স্বজন ফোন করলেই  তিনি  তার  খাতা খুলে বসেন। ফোন দেন নির্দিষ্ট ব্লাড গ্রুপের ব্যাক্তিকে। নিয়ে যান মেডিকেলে দেয় মুমুর্ষ বাক্তিকে রক্ত। 

নয়নজানান ,  রংপুর মেডিকেলেও তাদের  সদস্যদের নম্বর দেয়া আছে। ফোন দিলেই রক্তদাতারা চলে যান গিয়ে রক্তদেন।

 তিনি আরও জানান,  ৫৮ জনের  যারা বাইরে  চাকরিতে আছেন তাদের অনেকেই কর্মস্থলের আশে পাশে রক্ত দান করে যাচ্ছেন। এছাড়া রংপুরের আশ পাশের জেলায় যারা আছেন তারা ফোন পেয়ে দিয়ে যান  রক্ত । রক্ত শ্যূনত্যায ভুগছিলেন মিনারা বেগম। তিনি জানান,  ব্লাড গোল্ডের সদস্যদের নিয়মিত রক্ত পেয়ে  সুস্থ আছেন।

শরীরে কিডনি ড্যামেজ হয়েছে। তাকে রক্ত দিয়ে যাচ্ছে এই  সংগঠনের সদস্যরা।

চিকিৎসক  ডা: সমর্পিতা ঘোষ তানিয়া জানান,  তাদের  সংগঠনের শুরুর গল্পটা তিনি জানেন। প্রতি মাসেই এই যুবকরা মুমূর্ষু রোগীদের রক্ত দিয়ে আসছেন।

তিনি আরও জানান,  একজন ব্যাক্তি যে পরিমাণ রক্ত দেন তা পুনুরায় শরীরে তৈরি হতে সময় নেয় মাত্র ২৪ থেকে ৪৮ ঘন্টা। সরকারি বেসকরকারিভাবে সহযোগিতা করা গেলে এ  সংগঠনের কার্যক্রম আরও গতি পাবে বলেও  জানান।

১৭ নভেম্বর, ২০১৭ ২৩:৫১:২২