নোয়াখালীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ব্যবসায়ীকে অপহরণ, ২ লাখ টাকা মুক্তিপণে উদ্ধার
মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, নোয়াখালী
অ+ অ-প্রিন্ট
নোয়াখালী সোনাইমুড়ি থেকে মাসুদুর রহমান নামের ব্যবসায়ীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়ার ১২ ঘন্টা পর অপরহনকারীদের হাত থেকে নগদ ২ লাখ টাকা মুক্তিপন দিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (১৩নভেম্বর) দুপুরে জেলা শহরের সোনাপুর জিরোপয়েন্ট এলাকা থেকে ওই ব্যবাসীকে উদ্ধার করা হয়। অপহরনের পর পরই সংশ্লিষ্ট থানা ও পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের ঘটনাটি জানালেও পুলিশের নিকট থেকে কোনো ধরণের সহযোগিতা পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেছে তার অপহৃতের পরিবার। 

অপহৃত ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমানের আত্বীয় মিজানুর রহমান জানান, রোববার(১২নভেম্বর) রাতে সোনাইমুুড়ি উপজেলার আমিশাপাড়া ইউনিয়নের আলী আকবরের ছেলে মাসুদুর রহমানকে নিজ বাড়ী থেকে ৭/৮ জনের একদল লোক সোনাইমুড়ি থানার পুলিশ পরিচয় দিয়ে জোর করে একটি সাদা মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। পরে রাতেই গাড়ীর ভিতরে তাকে বিভিন্নস্থানে ঘুরিয়ে বেদম মারধর করা হয়। যার এক পর্যায়ে অপহরনকারীরা মাসুদুর রহমানের মোবাইল দিয়ে প্রথমে তাকে রাতেই মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে তার আত্বীয়-স্বজনের নিকট ফোন করে। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়ার শর্তে সোমবার সকালে দুস্কৃতিকারীরা ২ লাখ টাকা নিয়ে বেগমগঞ্জ চৌরাস্তায় আসতে বলে। এরপর পরই তারা অবস্থান পরিবর্তন করে চৌমুহনী-মাইজদী সড়কের পার্শে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সামনে ও পরে মাইজদীর সোনাপুরের জিরো পয়েন্টের কাছে মান্নান নগর চৌরাস্তায় টাকা নিয়ে আসতে বলে।

 এরই মধ্যে অপহরনের শিকার মাসুদুর রহমানের আত্বীয়-স্বজন ঘটনাটি সোনাইমুড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ)ওসি) ইসমাইল মিয়াকে এবং পরে নোয়াখালী পুলিশের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেই তাদের সাহায্য চায়। কিন্তু পুলিশের কোনো সাড়া না পেয়ে তারা নিরুপায় হয়ে অপহরনকারীদের হাতে নগদ ২ লাখ টাকা তুলে দিয়ে মাসুদুর রহমানকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। মুক্ত হওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে ব্যাপক জিঞ্জাসাবাদ করে। 

সোনাইমুড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)ইসমাইল মিয়া জানান, মাসুদুর রহমানকে উদ্ধার করে থানা হেফাজতে রাখা হয়েছে। কারা অপহরন করেছে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে ভিকটিমের অভিযোগের ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে। 

 

 

 

 

 

 

১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ১১:২৩:৪৭