খুলনায় গৃহবধুর রহস্যজনক মৃত্যু
মাওলা বকস, খুলনা
অ+ অ-প্রিন্ট
খুলনা নগরীতে গৃহবধু রহস্যজনক মৃত ূ মরিয়ম আক্তার সনিয়া (২৭)’র দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এদিকে এ ঘটনায় এখনও মামলা হয়নি। অপরদিকে গত রবিবার সোনিয়াকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জ্বরের রোগী হিসেবে ভর্তি করলেও প্রতিবেশীদের নিকট তারা বলেছে সে স্ট্রোক করেছে। গত রবিবার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, মরিয়ম আক্তার সোনিয়াকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন নির্যাতন করলেও পরিবারের অমতে বিয়ে করায় সে মুখ খুলতে পারেনি। পৌনে ২ বছরের সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে চুপ থাকতেন সব সময়। গত রবিবার  সকালে শাশুড়ি  যখন  সোনিয়াকে হাসপাতালে নিয়ে যায় তখন প্রতিবেশীরা জিজ্ঞাসা করলে বলে স্ট্রোক করেছে। তবে খুমেক হাসপাতালের মেডিসিন ২-এর ভর্তি রেজিস্ট্রার থেকে দেখা যায় রবিবার সকাল ৯টা ২৫ মিনিটে জ্বর হয়েছে বলে তাকে ভর্তি করা হয়। পরে মুখে ফ্যানা ও অন্য লক্ষণ দেখে দুপুর নাগাদ চিকিৎসকরা নিশ্চিত হন জ্বর নয় বিষ জাতীয় কিছু খেয়েছে সে। ততক্ষণে অবস্থা গুরুতর হলে আইসিউতে নিতে নিতে মৃত্যুবরণ করে সে।

গৃহবধূর মা মনোয়ারা বেগম জানায় সোনিয়াকে  প্রাইভেট পড়াতে আঃ রহিম  বাড়িতে আসতো। ২০০৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করলে পরিবারের অমতে বিয়ে করে তারা। রাগের কারণে কখনই তার সাথে যোগাযোগ করেনি সনিয়ার পরিবার। তবে সোনিয়া মা হওয়ার পর থেকে প্রতিবেশীদের মাধ্যমে তিনি খোঁজ নিতেন।

নিহতের চাচা মোঃ আবুল কালাম বলেন ‘মেয়েটি সব সময় নিজে কষ্ট করতো পরিবারের অমতে বিয়ে করার কারণে বাসায় আসতো না। কয়েকদিন আগে শ্বশুর বাড়ির সদস্যরা তাকে অত্যাচার করতো বলে বাবাকে ফোন করে জানিয়েছিল। বলেছিলেন চলে আসবে। কিন্তু ওরা আমার ভাইজীকে না মেরে ছাড়লোনা।’ এদিকে গতকাল বিকেলে ময়না তদন্ত শেষে লাশ খালিশপুর থানাধীন বন্ধগেট এলাকায় নিজ বাড়িতে আসলে হৃদয়বিদারক অবস্থার সৃষ্টি হয়। রাত সাড়ে ৮টায় নিউমার্কেট সংলগ্ন বাইতুন নুর জামে মসজিদের সামনে জানাজা শেষে বসুপাড়া কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।  

নিহতের মা মনোয়ারা বেগম বলেন কাল (আজ) সকালে সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করা হবে। সোনাডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ মমতাজ উদ্দিন বলেন ‘ঘটনাস্থলে অফিসার পাঠিয়েছি। সেখানে বাসায় তালা মারা। মামলা হলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

 

 

 

 

১৪ নভেম্বর, ২০১৭ ১১:০২:২৭