পশ্চিমাঞ্চলে রেলের আড়াই হাজার একর জমি বেদখল
আইনী জটিলতা ও কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় উদ্ধার অভিযান থমকে দাঁড়িয়েছে
রবিউল ইসলাম দুখু, রংপুর
অ+ অ-প্রিন্ট
 যুগের পর যুগ ধরে পশ্চিমাঞ্চলের রেলের  প্রায়  আড়াই হাজার  একর  জমি  বেদখল রয়েছে। স্থানীয থানাগুলো  রেলের মামলা নিতে অনিহা প্রকাশ করায়  উদ্ধার অভিযান  থমকে দাঁড়িয়েছে। এসব  জমি উদ্ধারে প্রায়  দুহাজার মামলা হলেও  সম্পতি  উদ্ধারে  আইনী জটিলতা  ও কার্যকর  পদক্ষেপ না থাকায়  কোটি  কোটি  টাকার  সম্পদ  বেহাত  হতে  বসেছে। অথচ রেলের সম্পদ উদ্ধার করে  রেলের ব্যাপক উন্নয়ন  করা সম্ভব বলে মনে করছেন  অভিজ্ঞ মহল।

পশ্চিঞ্চলীয়  রেলের  পাকশি ডিভিশনের  স্টে অফিসার  ইউনুস আলী জানান,  স্থানীয় থানাগুলো রেলের মামলা নিতে গড়িমসি করে। অনেক সময় মামলা নেয় না। আবার মামলা নিলেও তার তদস্ত চলে  ধীর গতিতে। ফলে রেলের বেহাত হওয়া  জমি উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। জমি উদ্দারে প্রায় ২ হাজার মামলা করা হয়েছে বলেও জানান।

 পশ্চিমাঞ্চলীয়  রেল সূত্রে জানা যায়,  রেলের  পশ্চিমাঞ্চল  লালমনিরহাট ও  পাকশী ডিভিশনের  অধিনে  ভূ- সম্পতি  কর্মকর্তা  কর্মচারীদের  অবৈধ   পন্থায়  লীজ প্রদান করায়  সরকারের কোটি কোটি  টাকার সম্পদ  বেহাত হতে বসেছে। পাকশী, পার্বতীপুর,  ও লালমনিরহাটে  এক শ্রেণীর ভূ-সম্পত্তি  কর্মকর্তা কর্মচারীর ও যোগ সাজসে  রেলওয়ের বাণিজ্যিক ভূমিগুলো  কৃষি শ্রেণী দেখিয়ে লীজ প্রদান করছে। লীজ গ্রহীতারা  কৃষি শ্রমিক হিসেবে  লীজ গ্রহণ করে  কাঁচাপাকা ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ  আবাসস্থল নির্মাণ করে  স্থায়ীভাবে বসবাস করছে।

ভূ- সম্পত্তির কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা যায়,  জমির প্রকার ভেদে  প্রতি বর্গফুট  ১৫ টাকা,  ৭০ টাকা ও  ৩শত ৭৫ টকায়  বাৎসরিক  লীজ প্রদান করা হয়। কৃষি জমির খাজনা বাড়লেও  বাণিজ্যিক জমির  খাজনা বাড়েনি  কয়েক বছরে । রেলওয়ে কর্মকর্তারা  লীজ গ্রহীয়তার কাছে  অবৈভাবে  বাণিজ্যিক সম্পতি  কৃষি দেখিয়ে  কোটি কোটি  টাকা হাতিয়ে  নিচ্ছে। রেলের কর্মকান্ড পরিচালনার জন্য  পশ্চিমাঞ্চলে ২১ হাজার  ৬শত  ৮১  একর জমি  ব্যবহার হচ্ছে। বাদবাকি জমি বৈধভাবে  লিজ দেয়া হয়েছে। 

সূত্রমতে,  লিজ বাদেও  ২ হাজার  একরেরও বেশি জমি  অবৈধ দখলে রয়েছে। এসব জমির  অধিকাংশই  প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে।

 রংপুর, লালনিরহাট,  দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়াসহ  বিভিন্ন জেলার  প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা  এসব জমি দখল করে ভোগ করছে। রেলের সম্পত্তি উদ্দার করতে গিয়ে  নাজেহাল হচ্ছে রেলের কর্মীরা । নানা জটিলতার কারনে  সম্পত্তি উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে না। দখল হওয়া জমি উদ্ধারের জন্য  রেলওয়ে প্রায় ২ হাজারেরও বেশি মামলা করেছে। অনেক ক্ষেত্রে আদালতের  মামলার জন্য  উচ্ছেদ করা সম্ভব হচ্ছে না। রাজনৈতিক প্রভাব,  সংশ্লিষ্ট  কর্তৃপক্ষের  উদাসীনতা,  সুষ্ঠু নীতিমালার অভাব , আইন শংক্রান্ত  জটিলতা,  উচ্ছেদ অভিযানে সময় মত পুলিশ  না পাওয়ার কারনে  রেলেওয়ের কোটি কোটির টাকার  সম্পত্তি  উদ্ধার করা সম্ভব হচ্ছে বলেও  একাধিক সূত্রে জানা যায়।

রংপুর  জেলার সুজনের  সভাপতি  বীরমুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন জানান,  পশ্চিমাঞ্চলীয় রেল বিভাগ  অনেক দিক থেকে পিছিয়ে আছে।  সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ  রেলের উন্নয়নে জোরে সোরে কাজ শুরু করলেই  অনেকাংশে  বেহাত জমি উদ্ধার হবে।  

 

১৯ অক্টোবর, ২০১৭ ১১:২৬:৩১