খুলনায় সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার প্রচারাভিযানের উদ্বোধন
মাওলা বকস, খলনা
অ+ অ-প্রিন্ট
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেছেন, মহাগনরীর পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দাতাসংস্থার সহযোগিতায় ২০১৪ সালের জানুয়ারি থেকে মানববর্জ্যরে সুষ্ঠু ও স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়। নতুন এ কর্মসূচির বিষয়ে অধিকাংশ নাগরিকবৃন্দ অবহিত নন বিধায় ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ব্যাপক প্রচারণার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সকলকে সচেতন করাই এ প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য।

সিটি মেয়র গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় নগরীর শহিদ হাদিস পার্কে নিয়মিত নিরাপদ সেপটিক ট্যাংক বা পিট পরিষ্কার প্রচারাভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করছিলেন। কেসিসি’র মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির আওতায় সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কারে উদ্বুদ্ধ করতে 'সেপটিক ট্যাংক পরিষ্কার-প্রতিবছর একবার' স্লোগান সম্বলিত ২ মাসব্যাপী এ ক্যাম্পেইনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সিটি মেয়রসহ অতিথিবৃন্দ লোগো উন্মোচন ও বেলুন উড়িয়ে প্রচারাভিযানের উদ্বোধন করেন এবং লোগো ও কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।

কেসিসি’র প্যানেল মেয়র রুমা খাতুন-এর সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলমগীর, মানব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা (এফএসএম) প্রকল্পের টীম লিডার রাজীব মুনানকামী ও ওয়াটার স্যানিটেশন ফর আরবান পুওর প্রকল্পের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ আবু শাহিন।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বলেন, দেশের স্যানিটেশন ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। সেই সাথে মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নও ঘটাতে হবে। মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ নগরবাসীর সেবামূলক কাজে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতা করে আসছে এবং আগামীতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

কুয়েট-এর উপাচার্য বলেন, খুলনাকে পরিবেশ বান্ধব নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সকলকে উদ্যোগী হতে হবে। বছরে একবার সেপটিক ট্যাংক পরিস্কারে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য এই প্রচারাভিযান একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি এই কার্যক্রমের সফলতা কামনা করেন।

স্বাগত বক্তৃতা করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ ইকবাল হোসেন। কেসিসি’র কাউন্সিলর, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকল্পের কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন শেষে বিষয় ভিত্তিক সচেতনতামূলক পট গান ও নাটিকা প্রদর্শিত হয়।

উল্লেখ্য, খুলনা শহরে বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে ৫টি ভ্যাকুট্যাগ রয়েছে। বড় দু’টি যথাক্রমে ৭ হাজার ও ৫ হাজার লিটার এবং ছোট ৩টি’র প্রতিটি ১ হাজার লিটার বর্জ্য ধারণের ক্ষমতা রয়েছে। হোল্ডিং মালিকগণ কেসিসি কর্তৃপক্ষ বরাবর যোগাযোগ করলে ভ্যাকুট্যাগের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মতভাবে সেপটিক ট্যাংক খালি করা হয়। এছাড়া সুষ্ঠু ও দ্রুত নগরবাসীকে মানববর্জ্য বিষয়ক সেবা  দেয়ার জন্য জিআইএস ভিত্তিক ডাটাবেজ ও অনলাইন সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। ফলে মানববর্জ্য ব্যবস্থাপনা সেবার মান আরো গতিশীলতা পেয়েছে।

 

 

 

 

 

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ১০:৪৮:২২