আগৈলঝাড়ায় একটি ব্রিজ শিক্ষার্থী জনগণের মরণ ফাঁদ
তপন বসু, বরিশাল
অ+ অ-প্রিন্ট
আগৈলঝাড়া উপজেলার রাজিহার ইউনিয়নের উত্তর বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও হাট সংলগ্ন আয়রণ ব্রীজটি নির্মানের পর কোন সংস্কার না হওয়ায় ব্রীজের ঢালাই খসে পরে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের মরন ফাঁদে পরিনত হয়েছে। ব্রীজ সংলগ্ন উত্তর দিকে প্রায় দেড় কিলোমিটার অত্যান্ত নীচু রাস্তায় পানি জমায় লোক চলাচলের অনুপোযোগী হওয়ায় ব্রীজ ও রাস্তা নির্মানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা প্রকৗশলী রাজ কুমার গাইন ও ডানিডা সার্ভে প্রকৌশলী এনায়েতুর রহমান সরেজমিন ওই এলাকা পরিদর্শণ করেছেন। 

সংশ্লিষ্ঠ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে এলজিইডি বিভাগের আওতায় পুরাতন ব্রীজের মালামাল দিয়ে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের যাতায়াতের জন্য স্কুল ও বাহাদুরপুর হাট সংলগ্ন আয়রণ স্ট্রাকচার ব্রীজ নির্মান করা হয়। 

সূত্র মতে, নির্মানের পরে ২১ বছরেও ওই ব্রীজটি কোন সংস্কার না করায় ব্রীজের মধ্যের অংশের ঢালাই খসে পড়ে লোকজন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পরেছে। এর সাথে ব্রীজের আয়রণ স্ট্রাকচারগুলো মরিচা ধরে ভেঙ্গে খসে পরছে। গত শনি ও রবিবার বিকেলে উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রাজকুমার গাইন ও ডানিডা সার্ভে প্রকৌশলী এনায়েতুর রহমান প্রত্যন্ত ওই এলাকা পরিদর্শন করে ব্রীজটি অত্যান্ত ঝুকিপূর্ণ বলে জানিয়েছেন। পরিদর্শণ শেষে প্রকৌশলীদ্বয় বলেন, জরুরী ভিত্তিতে ব্রীজটি পুণঃনির্মাণ করা দরকার হলেও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা কেন ওই ব্রীজটি কোন প্রকল্পের আওতায় এত দিন দাখিল করলেন না তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তারা। ব্রীজ থেকে উত্তর দিকের নীচু রাস্তায় বর্ষা মৌসুমে পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় অনেক শিশু শিক্ষার্থীদের স্কুল ও কলেজে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। ওই এলাকায় অন্তত অর্ধ ডজন ব্যবহারের অনুপোযোগী এরকম আয়রন স্ট্রাকচার স্লাব ব্রীজ রয়েছে। 

এসময় প্রকৌশলীদ্বয় বাহাদুরপুর স্কুল ব্রীজ থেকে বিশ্বনাথ রায়ের বাড়ি ভায়া ৭৫নং বাহাদুরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে জগদীশ ভক্তর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় দেড় কি.মিটার নীচু ও কর্দমাক্ত রাস্তা পরিদর্শণ করেন। তারা উল্লেখিত ব্রীজ ও রাস্তা নির্মানের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রনালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ -এমপি’র সুপারিশ ও নির্দেশ মোতাবেক জনস্বার্থে দ্রুত প্রকল্প গ্রহন করবেন বলে স্থানীয়দের আশ্বস্ত করেন।   

ঝুকিপূর্ণ ওই ব্রীজ ও বর্ষার পানিতে নিমজ্জিত রাস্তা দিয়ে ৭৫নং বাহাদুরপুর ও বাহাদুরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহাদুরপুর হাট সংলগ্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বাহাদুরপুর নিশিকান্ত গাইন স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষার্থীসহ বাহাদুরপুর হাটে হাজার হাজার লোক যাতায়াত করছে। ব্রীজ দিয়ে প্রতিদিন জীবনের ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে শিক্ষার্থীসহ এলাকার লোকজন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মরন ফাঁদে পরিনত হওয়া ব্রীজটিতে স্থানীয়রা কাঠের পাটাতন দিয়ে সাময়িকভাবে কোন রকমে চলাচলের ব্যবস্থা রেখেছে।

১৭ জুলাই, ২০১৭ ১৩:৫৭:১১