হ্যামিল্টনে বৈশাখী মেলা
এনামুল হক টিপু
অ+ অ-প্রিন্ট
বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব হ্যমিল্টন এর সভাপতি  ইফতখার জায়গীরদার ইপু এবং সাধারন সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বৈশাখী মেলার কার্যক্রম শুরু করেন। ১ বৈশাখ শুধু যে বাংলাদেশে পালিত হয় তা নয়। বিশ্বের যেখানেই বাঙ্গালীদের বসবাস সেখানেই মেতে উঠে এই উৎসবের। নানা ধরনের মালার। বৈশাখী মেলার।

তার বেতিক্রম হয়নি হ্যামিল্টন শহরেও। সেন্ট থমাস ক্যাথলিক এলিমেন্টারী স্কুলে বসেছিল বাংলার ঐতিহ্যবাহী মেলা বৈশাখী মেলা ১৪২৬। গত ২৮ এপ্রিল ২০১৯ রবিবার বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব হ্যমিল্টন এই মেলার আয়োজন করে। সারাদিন ব্যাপী অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক লোকের সমাগম হয়। এবারের মেলায় উপচে পড়া ভিড়ে হলে অনেকেই বলছিলেন আগামীতে আরো বড় হল ভাড়া করা দরকার। তিল পরিমান জায়গা ছিলনা হলে। পরিবারের সবাই মিলে এক সাথে আসেন বাংলার স্বাদ নিতে, বৈশাখী মেলা উপভোগ করতে। মেলায় কি না ছিল, গহনা ঘাটি, শাড়ী কাপড়, নানা ধরনের পিঠার দোকান। দেশীও পিঠা, ঝাল মুড়ী, বিরিয়ানী, সমোছা সহ নানা ধরনের খাবারের সমাহার। সবাই মহা আনন্দে এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ভিড় জমান আর আড্ডায় মেথে উঠেন। মেলার সাথে সাথে চলছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। এতে গান, নাচ, স্থানীয় শিল্পীদের নিয়ে জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বাংলাদেশ থেকে আগত আটবারের জাতীয় পুরস্কার পাওয়া বাংলাদেশের প্লে ব্যাক কিং সিংগার এন্ড্রু কিশোর এর  জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আগাগোড়াই ছিল বৈচিত্র্যময়। লোকে লোকারন্যে মেলাও ছিল জমজমাট। পুরাদিনটি ছিল চমৎকার আবহাওয়া। হ্যামিল্টনবাসীর উপচে পড়া অংশগ্রহন জানান দিচ্ছে যে, আমাদের জাগ্রত দেশপ্রেম কতটা উপরে। শুরুতে শিশু কিশোরদের পর্ব দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। তরপর শুরু হয় স্থানীয় শিল্পীদের নাচ, গান, কবিতা ও দলীয় সঙ্গীত। সেখানে সানজের আরিফ পিয়াল এবং সিপ্রা দাস এর গান সবাইকে অবাক করে দেয়। মেলার বিশেষ আকর্ষণ বাংলাদেশের প্লে ব্যাক কিং এন্ড্রু কিশোর মঞ্চে আসার সাথে সাথে মেলার পরিবেশ একেবের বদলে যায়। সবাই অধীর আগ্রহ ও মনোযোগ দিয়ে তার গানের মোহনায় বিলিয়ে যান, উপভোগ করেন। এন্ড্রু কিশোর এর সাথে কন্ঠ মিলাতে মঞ্চে আসেন টরন্টো থেকে আগত মহুয়া পারিয়াল। দুজনের দৈত কন্ঠে মাতিয়ে রাখেন সবাইকে। অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা ছিলেন জেসমীন হক ও সামিনা চৌধুরী নিপা। এবারের বৈশাখী মেলা ছিল খুবই জমজমাট, অর্গেনাইজড ও অন টাইম, যা সকলের প্রসংশা অর্জন করে।হ্যামিল্টনে বৈশাখী মেলা

সব শেষে সভাপতি ইফতেখার জাইগীরদার ইপু উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন।  তিনি বলেন, আগামীতে আপনাদের সবার অকৃত্রিম ভালবাসা ও সমর্থনে আমরা আরো সুন্দর কিছু উপহার দিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। তারপর তিনি মেলার স্পন্সরদেরকে মঞ্চে পরিচয় করিয়ে দেন। সাধারন সম্পাদক মুছাদ্দেক হোসেন সবার উদ্দেশ্যে বলেন, হ্যামিল্টনের সর্বস্তরের মানুষের বিপুল উপস্হিতি এবং অংশগ্রহনের মাধ্যমে সার্থক হয়েছে আমাদের এবারের বৈশাখীর আয়োজন। আপনাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা ও মোবারকবাদ। আপনাদের এই উৎসাহ উদ্দীপনা বাংলাদেশ এসোসিয়েশনের আগামী দিনের পাথেয়। দর্শনীবিহীন এযাবৎ কালের সর্বাধিক ব্যয়বহুল এ আয়োজন আর্থিকভাবে দূরুহ হলেও আমাদের ঐকান্তিকতা এবং আপনাদের সহযোগিতায় সুসম্পন্ন করতে পেরে আমরা গর্বিত ও আনন্দিত।। সহ-সভাপতি লুৎফুল চৌধুরী তায়েদ সবাইকে আগামী ইফতার মহফিল ও বার্ষিক বনভোজন এর দাওয়াত জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। তারপর সকল অতিথি শিল্পীদের ও কলাকৌশলীদের ফুলের তোড়া দিয়ে অভিনন্দিত করার মাধ্যমে বৈশাখী মেলার সমাপ্তি হয়।হ্যামিল্টনে বৈশাখী মেলা


 


০৩ মে, ২০১৯ ০৮:৫৯:১৩