প্রায় ছয় লক্ষেরও বেশি লোক আহমদীয়া জামাতে কনভার্ট হয়েছে...আহমেদ তারেক মোবাশ্বের
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
ইসলামি চিন্তাবিদ, আলেম আহমেদ তারেক মোবাশ্বের সাংগঠনিক সফরে এসেছিলেন টরন্টো। আহমদীয়া মুসলিম জামাতের বাংলা ডেস্কের একজন তিনি।  থাকেন ইউকে তে। মানবসেবায় নিয়োজিত এই মিশনারীর সঙ্গে কথা হয় বেঙ্গলি টাইমস প্রতিনিধির। একান্ত সাক্ষাৎকারে জানান এই কমিউনিটির বিভিন্ন কার্যক্রম । সমাজ ও রাষ্ট্র বিষয়েও কথা বলেন তিনি। 

 

বেঙ্গলি টাইমস : শুরুতেই জানতে চাচ্ছি ইউকেতে আপনাদের মিশনারির কী অবস্থা। আমরা জানি ইউকেতে আপনারা বড় বড় ইভেন্ট করে থাকেন। তো শুরু থেকে এ পর্যন্ত কি অবস্থায় আছেন আপনারা। ইউকেতে এর রেসপন্স কেমন। এ প্রশ্নটি করার দুটি কারণ। আমরা জানি যে, বাংলাদেশে যারা কট্টর গোড়া এদের মুখোমুখি হতে হয়েছে আপনাদের বারবার।  ইউকেতেও বাংলাদেশী কমিউনিটি অনেক বড়। এখানে কেমন প্রতিক্রিয়া পাচ্ছেন ?  

আহমেদ তারেক মোবাশ্বের : ইউকেতে আমাদের অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। তবে যেহেতু আপনারা জানেন পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে বাংলাদেশ বা প্রাচ্যের দেশগুলোর মত উগ্রবাদীরা তেমন কোন সুযোগ সুবিধা পায় না। মানে, সরকারিভাবে প্রশাসনের ছত্রছায়ায় থেকে সুবিধা আদায় করে নেয়ার মত কোন সুযোগ নেই তাদের। কাজেই ভিতরে ভিতরে আমাদের বিরুদ্ধে অনেক কিছুই করার চেষ্টা করে থাকে তারা। কিন্তু সামনা সামনি সফল হতে পারে না তারা। ইংল্যান্ডে তারা আমাদের একজন পাকিস্তানিকে ছুরিকাঘাত করে মেরেও ফেলেছে তারা। বিরোধীদের মুখোমুখি আমাদের হতে হয়। যেহেতু আইন এবং প্রশাসন তাদের কোন সুযোগ সুবিধা দেয় না সেহেতু তারা আমাদের বিরুদ্ধে তেমন  কিছু করতে পারে না। ইংল্যান্ডে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলে বিশেষ করে পাকিস্তানি চ্যানেলে আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষোদগার ছড়িয়েছে। আমরা সরকারের কাছে কমপ্লেইন জানিয়েছি। সেখানে মিডিয়া রেগুলারিটি বোর্ড যেটা আছে, তারা কিছু চ্যানেল বন্ধও করে দিয়েছে। প্রথমে তারা সতর্ক করেছিল পরে বন্ধ করে দেয়। বৃটিশ সরকার ধর্মীয় স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। বৃটিশ সরকার যখন প্রথম ভারতবর্ষে গিয়েছিল ভারতবর্ষেও অবস্থা তখন খুব করুণ ছিল আমরা জানি। আমরা যদি ইতিহাস দেখি ১৮৬০ বা ১৮৭০ এর দশকে ভারতবর্ষের ধর্মীয় অবস্থা খুবই খারাপ ছিল। সামান্য বিষয়ে হিন্দু-মুসলমান, হিন্দু-শিখ এদের মধ্যে ঝগড়া লেগেই থাকত। কিন্তু ইংরেজ সরকার সেখানে গিয়ে ধর্মীয় স্বাধীনতা প্রদান করে। তারা গিয়ে বলে দেখো প্রত্যেকের নিজের নিজের ধর্ম প্রচার, প্রসার এবং লালন করার অধিকার আছে। তুমি মানবে কি মানবে না এটা তোমার দায়িত্ব। মৌলভী বা মৌলবাদী যারা আছে তারা আমাদো একটা অপবাদ দেয় যে, মীর্জা গোলাম আহমদ কাদীয়ানী (আ.) ইংরেজদের চর। কেননা সে ইংরেজদের পক্ষে কথা বলেছে। কিন্তু তারা এই জিনিসটা দেখে না যে মীর্জা গোলাম আহমদ কাদীয়ানী (আ.) বলেছেন, হে মুসলমানরা তোমরা গরু জবাই করতে পারতে না পাঞ্জাবে, হে হিন্দুরা তোমরা নিজেরা শঙ্খ বাজাতে পারতে না, শিখরা কমপ্লেইন করতো। তিনি শিখদের বলেছেন তোমরা নিজেরা নিজেদের ধর্ম পালন করতে পারতে না। একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে লেগেই থাকতে। ইংরেজ সরকার তোমাদের জন্য আমাদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে এসেছে।  তারা এসে আমাদেরকে ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে। পবিত্র কোরআন বলেছে কেউ যদি তোমার কোন উপকার করে তুমি তার প্রতি কৃতজ্ঞ থেকো। আমি কৃতজ্ঞতার জন্য ইংরেজদের প্রশংসা করছি। এছাড়া ইংরেজদের সঙ্গে আমাদের আর কোন দহরম মহরম ছিল না। ইংরেজরা যেহেতু ভারতে গিয়ে মুসলমান, হিন্দু এবং খৃষ্টানদের ধর্মীয় স্বাধীনতা দিয়েছে সেজন্য তাদের প্রশংসা করছি। তারা আমাদের জন্য আশীর্বাদ স্বরূপ। তার মানে এই না আমরা তাদের সঙ্গে কোন আতাত করছি। ভারতবর্ষ থেকে বাংলাদেশ থেকে বা পাকিস্থান থেকে যেসব গোড়া মৌলভীরা ইংল্যান্ডে এসেছে তারাও আমাদের বিরোধীতা করে। কিন্তু যেহেতু প্রশাসন তাদের কোন সহযোগিতা করে না তাই তারা প্রকাশ্যে কিছু করতে পারে না। আমাদের কার্যক্রম ইনশাল্লাহ ভাল চলছে।

 

বেঙ্গলি টাইমস : এখনতো আমরা জানি আহমদিয়া মুসলিম জামাত এখন অনেক বড় একটি সংগঠন। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কি ধরনের সাড়া পাচ্ছেন। সাধারণ মানুষ কিভাবে আপনাদের পতাকাতলে আসছে।

আহমেদ তারেক মোবাশ্বের : এটা কি আপনি শুধু আপনি ইংল্যান্ডের কথা জানতে চান?

 

বেঙ্গলি টাইমস : না, সারা পৃথিবীতে..

আহমেদ তারেক মোবাশ্বের : সারা পৃথিবীর কথা যদি বলি এক কথায় আল্লাহ তাআলার রহমতে সারা পৃথিবীর লক্ষ লক্ষ মানুষ আহমদি জামাতের পতাকা তলে আসছে।

 

বেঙ্গলি টাইমস : আর ইংল্যান্ডে?

আহমেদ তারেক মোবাশ্বের : ইংল্যান্ডে এবং পাশ্চাত্যের বিষয়টি আপনি জানেন এখানকার মানুষ জগতমুখি, তারা ধর্মমুখি নয়। তারা ধর্ম বিরোধী। তারপরেও ইংল্যান্ডে আল্লাহ তাআলার ফজলে ভাল একটা সংখ্যা সাদা চামড়ার আমরা যাদের শ্বেতাঙ্গ বলি তারা গত বছর প্রায় একশ’র বেশি লোক আমাদের সঙ্গে সামিল হয়েছে। আর প্রায় ছয় লক্ষেরও বেশি লোক আমাদের জামাতে কনভার্ট হয়েছে।

 

বেঙ্গলি টাইমস : আচ্ছা বাংলাদেশের অবস্থা কি?

আহমেদ তারেক মোবাশ্বের : বাংলাদশের অবস্থাও ভাল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সাহেবের স্লোগান কিন্তু এটাই ছিল -যে ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার। এটা ছিল আওয়ামীলীগের স্লোগান। এই স্লোগানের ওপর বর্তমান সরকারের প্রধান বা দেশনেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অধিষ্ঠিত আছেন। তিনি চান না দেশে কোনভাবে ধর্মীয় নৈরাজ্য সৃষ্টি হোক। করতে দেনও না। তারপরও জানেন বাংলাদশে যেখানে অন্যায় সুযোগ সুবিধা গ্রহনের সুযোগ আছে, যেখানে পুলিশ এবং প্রশাসনকে পয়সা দিয়ে কিনে নেয়া যায়। এখনও প্রশাসনের বিভিন্ন জায়গায় জামায়াতের লোক বসে আছে। আমি উদাহরণ দিয়ে বলতে পারি যে কারণে বিভিন্ন জায়গায় অনেক বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো ঘটছে, এগুলো কোন পরিকল্পিত ঘটনা নয়।

 

বেঙ্গলি টাইমস : বিশেষ করে বি.বাড়ীয়া...

আহমেদ তারেক মোবাশ্বের : বি.বাড়ীয়া বা সিমান্ত এলাকাগুলোতে, যেমন সাতক্ষীরা, এসব এলাকাগুলোতে মৌলবাদীদের আখড়া রয়েছে । সেই এলাকাগুলোতে আমরা কিছুটা সমস্যার সম্মুখিন হয়েছি। কিন্তু সরকার কখনো তাদের সাপোর্ট দেয়নি।

 

বেঙ্গলি টাইমস  : এটা অবশ্য একটা ভাল দিক।

আহমেদ তারেক মোবাশ্বের : এটা অবশ্যই একটা ভাল দিক। এজন্য আমরা সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞ। কিন্তু যেমনটি আমি বললাম, সরকারতো একজন নয়। সরকারতো একটা পুরো বডি। সরকারের প্রশাসনে যারা আছে তাদের মধ্যে লুকিয়ে আছে এমন কিছু বিষধর সাপ যারা বিভিন্ন সময় ছোবল মারে। ২০১৩ সালে বাংলাদেশে আহমদি জামায়াতের একশ’ বছর পূর্ণ হয়েছে। আমরা সরকারের কাছে বললাম আমাদের একশ’ বছর পূর্তি উপলক্ষে আমরা বড় পরিসরে একটা জলসা করতে চাই। সরকার প্রথমে আমাদের মৌচাকের স্কাউটের যে জাম্বুরি হয় সেটা আমাদের দিলেন। পরবর্তিতে বললেন না এখানে করলে ট্রাফিক হয়ে যাবে তোমাদেরকে গাজীপুরে দেই। আমরা পুরো আয়োজন করলাম। কিন্তু আমাদের জলসাটা যখন শুরু হবে তখন প্রশাসন গিয়ে বন্ধ করে দিল। পরের বছর সরকারের সঙ্গে, সেখানকার লোকাল এমপির সঙ্গে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে তারা আমাদেরকে গাজীপুরে একটা জায়গা দিলেন সেখানে আমরা একটা জলসা করলাম। কিন্তু তারা রাতারাতি আমাদের দেড় কোটি টাকার জিনিসপত্র পুড়িয়ে দিল। এবং এর পেছনে ছিল সে এলাকার ডিআইজি। এবং সবকিছু পোড়ানোর পরে তিনি মৌলবাদীদেও সভায় গিয়ে ঘোষণা দিলেন, আমি আপনাদের সঙ্গে  আছি। যদি প্রশাসনের কোন কর্মকর্তা মৌলবাদীদের এভাবে সাপোর্ট দেয় তাহলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষ যারা একেবারেই নিরিহভাবে ধর্মকর্ম পালন করতে চায় তাদের একেবারেই অসহায় হওয়া ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না। কিন্তু সরকার এর সাথে জড়িত না। সরকারের ছত্রছায়ায় সরকারের প্রশাসনে এমন কিছু লোক জড়িত আছে যারা সরকারের দুর্নাম করার জন্য এধরণের কাজগুলো করে থাকে। আসলে এর পেছনে জামায়াতে ইসলামী রয়েছে, বিএনপি রয়েছে। আমি প্রকাশ্যে তাদের নাম বলতে পারি। ২০০৩ সালে মুফতি নুরানি এবং তার বাহিনীরা নাখালপাড়াতে নাখালপাড়া রহিম মেটাল মসজিদ থেকে আমাদের উপর হামলা করতে আসে  সেখানে পুলিশ লাঠিচার্জ করে এবং মৌলবাদীদের অনেকে আহত হয়। সেই সময় সন্ধ্যাবেলা যখন স্বরাষ্ট্র সচিব ওমর ফারুক ওদেরকে দেখতে যায় তিনি তখন পুলিশকে বলছিলেন আমার লোকদের গায়ে কার অর্ডারে হাত দিলে তোমরা। এতে বোঝা যায় সরকার যদিও আওয়ামীলীগের কিন্তু এর পেছনে কাজ করছে যারা তারা মৌলবাদী চক্রের সঙ্গে জড়িত। তারা জামায়াতে ইসলামের সঙ্গে জড়িত। তাদের নিয়েই আমাদের ভয়। সরকারের কাছে আমাদের বিনিত অনুরোধ এই লোকগুলোকে চিহ্নিত করে এখনই যদি দমন করা না হয় তবে ভবিষ্যতে তারা আহমদিয়া জামায়াতের জন্যই নয়, সরকারের জন্যও হুমকি হয়ে যাবে।

 

বেঙ্গলি টাইমস : তবে সার্বিকভাবে আগের চাইতে এখন পরিস্থিতি অনেক ভাল। এখন যে বিষয়টি জানতে চাইব আমরা যে আমরা প্রবাসে আমাদের মুসলমান যে ইয়ুথ কমিউনিটি তাদের মধ্যে কাউকে কাউকে সন্ত্রাসী সংগঠনের সঙ্গে জড়িয়ে পরতে দেখা যায়। ইউকে থেকে প্রচুর রিপোর্ট পেয়েছি এমনকি আমাদের কানাডাতেও দু’একটি ঘটনা ঘটেছে । আমাদের কাছে মনে হয় এটা আমাদের কাছে একটা বড় চ্যালেঞ্জ। যারা আমরা মনে করি ইসলাম একটি শান্তির ধর্ম, ইসলাম এমন একটি গাইড লাইন যেখানে বিপথগামী হওয়ার কোন সুযোগ নাই। ইয়ুথ গ্রুপ যাতে বিপথগামী না হয় তারা যাতে মনে করে ধর্ম হচ্ছে শান্তির জন্য। আহমদিয়া মুসলিম জামাত এক্ষেত্রে কি ভূমিকা পালন করছে ? এক্ষেত্রে আপনাদের গাইডলাইনটা কি? 

আহমেদ তারেক মোবাশ্বের : এটা খুব একটা সুন্দর প্রশ্ন। প্রথমে আমাদের বুঝতে হবে যুব সমাজ কেন বিপথে যাচ্ছে, এটা আমাদেও চিহ্নিত করতে হবে।  পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, আমি জিন এবং ইনসানকে আমার এবাদতের জন্য সৃষ্টি করেছি। মানুষ যখন খোদার এবাদতের জায়গা থেকে সরে যায় তখন খোদার জায়গাটা দখল করে নেয় শয়তান। শয়তান তখন মানুষকে বিপথে পরিচালিত করে। এটা হচ্ছে একটা কারণ। দ্বিতীয় হচ্ছে সামাজিকভাবে যখন মানুষ হতাশায় ভুগতে থাকে অর্থাৎ চাকরি নাই, অর্থনৈতিক মন্দা, পিতা-মাতার সঙ্গে সন্তানের দূরত্ব ইত্যাদি কারণে সন্তানরা ধ্বংসাত্মক পথে পা বাড়ায়। তখন তারা সস্তা জেহাদের মাধ্যমে তাদের নিজেদের যে আত্মিক চাহিদা সেটা পূরণ করার চেষ্টা করে, এটাও একটা কারণ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এক্ষেত্রে আহমদিয়া জামায়াত কি ভূমিকা পালন করছে। আহমদিয়া জামায়াতের বিশ্বাস আমাদের মাঝে আল্লাহ তাআলার নির্দেশ অনুযায়ী হযরত মোহাম্মদ (সা.) এর নির্দেশ অনুযায়ী সেই যুগে ইমাম মাহাদী এসেছেন এবং তার পঞ্চম খলিফা আমাদের মাঝে চলছে। পঞ্চম খলিফা প্রতি শুক্রবার জুমআর নামাজের খুৎবায় আমাদেরকে একটা প্রেসক্রিপশন দিচ্ছেন। এভাবে করো, এভাবে করবে না এভাবে যারা করেনি তাদের ক্ষতি হয়েছে এভাবে যারা করেছে তাদের লাভ হয়েছে। এই প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী আমরা আমাদের সন্তানদের পরিচালিত করার চেষ্টা করি। এবং অবিভাবকদের যেমন দায়িত্ব আছে সন্তানদেরও কিছু দায়িত্ব আছে। আমরা ছোট বয়স থেকেই সন্তানদের ধর্মীয় শিক্ষায় গড়ে তোলার চেষ্টা করি। আমরা মনে করি জাগতিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জাগতিক শিক্ষা আপনার বাহ্যিক ৭০ বা ৮০ বছরের জীবনে হয়তো কোন কাজে আসবে। আর ধর্মীয় শিক্ষা মৃত্যুর পরে যে অনন্ত জীবন সেখানে কাজে আসবে। সুতরাং শুধু জাগতিক জ্ঞানই আপনাকে পরিপূর্ণ জ্ঞানী করতে পারে না, সেজন্য ধর্মীয় জ্ঞানেরও প্রয়োজন রয়েছে। আমরা অর্থাৎ আহমদিয়া জামাত এই দুটোকে ব্যালেন্স করার চেষ্টা করি। আপনি জানেন আমাদের আহমদিয়া মুসলিম জামায়াতের মধ্যে পাঁচটি সংগঠন রয়েছে। এই যে পাঁচটা সংগঠন আমোদেরকে ভাগ করে দেয়া হয়েছে। এই পাঁচটা সংগঠনের আলাদা আলাদা মিতা হয়। তারা একেবারে নি¤œ ধাপ থেকে বাচ্চাদেরকে ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করার চেষ্টা করে।  আপনি দেখবেন যে উইকেন্ডে বাচ্চারা এখানে-সেখানে যাচ্ছে আমরা এটা উৎসাহিত করি না। অবশ্যই আমরা অভিভাবকদের বলি তোমরা অবশ্যই উইকেন্ডে আমাদের মসজিদে বাচ্চাদের পাঠাও, অথবা আমাদের নামাজ সেন্টারে পাঠাও। অথবা আমাদের যেখানে অফিস আছে সেখানে পাঠাও সেখানে আমারা কোরআন পড়া শেখাই, হাদিস শেখাই। সেখানে আমরা কোরআন এবং বিজ্ঞানের মধ্যে কিভাবে সামঞ্জস্য করতে পারব এবং এই দুটোর মধ্যে কি সম্পর্ক আছে সেটা শেখাই। যে কারণে আমরা ৭ বছর বয়স থেকেই তাদেরকে আমরা ক্রমান্বয়ে ধর্মীয় শিক্ষাটা দিতে থাকি। সেজন্য তাদের জন্য বিপথে যাওয়াটা একটু কষ্টকর বা কঠিন। দু’একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা যে আমাদের মধ্যে ঘটে না এমন না। তবে আমাদের মধ্য থেকে এমন একজনও দেখাতে পারব না বা পাই নাই যে তারা কেউ উগ্রবাদী সংগঠনের সাথে জড়িত হয়েছে। হয়তো সে একটিভ মেম্বার না বা সে হয়তো পুরোপুরি আমাদের সেন্টারে আসে না বা যেভাবে সময় দেয়ার কথা সেভাবে দেয় না।  সন্তানদের গড়ে তোলার যে ইসলামী শিক্ষা এটা এভাবে বাস্তবায়ন করি।

 

বেঙ্গলি টাইমস : আপনার ইনভলমেন্টটা কত সাল থেকে?

আহমেদ তারেক মোবাশ্বের : আমি জন্মগতভাবে এই জামাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমার মাও জন্মগতভাবে এই জামাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত। আমার মায়ের নানা বাংলাদেশে ১৯১৩  সালে প্রথম আহমদিয়া সম্প্রদায় যায় তখন বয়াত করেছিলেন ব্রাক্ষ্মনবাড়ীয়াতে। তখন আমার মায়ের যে নানা তার একমাত্র মেয়ে ছিলেন আমার নানী। সুতরাং আমার মা ও নানী জন্মগতভাবে আহমদি, কিন্তু আমার বাবা কনভার্টেট আহমদি। আমার বাবা যখন ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়ে ঢাকাতে আসলেন ঢাকা ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার জন্য তখন তার ইংরেজির টিচার ছিলেন ড. লুৎফর রহমান সাহেব। তিনি বললেন, তুমি যেহেতু ঢাকা যাচ্ছ ইউনিভার্সিটির পাশেই বকশি বাজারে আহমদীয়া জামাত আছে  ওটা দেখে এসো। উনি ওখানে যান, খোঁজখবর নেন, দেখেন, ধীরে ধীরে পড়াশোনা করেন তারপরে তিনি বয়াত নেন। ১৯৫৯ সনে তিনি বয়াত নেন। পরে আমার মায়ের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। পরে আমরা চার ভাইবোনই জন্মগতভাবে এই জামাতের সঙ্গে সম্পৃক্ত হই। মিশনারি একটিভিটিজের সঙ্গে আমি জড়িত হই ১৯৯১ সনে। তখন থেকে আমি বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ফিল্ড লেভেলে কাজ করেছি। এরপর ২০০৩ থেকে ২০০৪ পর্যন্ত আমি ন্যাশনাল লেভেলে কাজ করেছি । এরপর ২০০৪ থেকে আমি লন্ডনে আছি। 

 

বেঙ্গলি টাইমস : এ মুহুর্তে আপনাদের ফোকাসটা কোন দিকে বেশি। কোন বিষয়টা নিয়ে মিশনারিতে কাজ করা হচ্ছে?

আহমেদ তারেক মোবাশ্বের : এ মুহুর্তে আমাদের ফোকাসটা হচ্ছে বিশ্বে কিভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা যায়। কারণ এখন বিশ্বে সবচেয়ে বড় হুমকি যেটা  সেটা হচ্ছে অশান্তি। অশান্তিতো আর একদিনে দূর করা যাবে না। অশান্তিটা প্রথমে হয় ব্যাক্তি পর্যায়ে এরপর পারিবারিক এরপর এটা সমাজে ছড়ায়। এরপর রাষ্ট্রীয় বা আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ছড়িয়ে পড়ে। এখন আমরা সারা বিশ্বে দেখতে পাচ্ছি বিশেষ করে মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে চরম অশান্তিকর পরিবেশ। এই পরিবেশ থেকে আমরা কিভাবে শান্তির পথে ফিরিয়ে আনতে পারি সেই চেষ্টাটা আমরা করছি। আমাদের যে পঞ্চম খলিফাকে বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানরা শান্তির বরপুত্র বলে। শান্তি প্রতিষ্ঠায় তিনি চেষ্টা করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। উনি কেপিটেল হিলে গিয়ে বক্তব্য রেখেছেন, উনি ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টে বক্তব্য রেখেছেন, উনি বৃটিশ পার্লামেন্টে বক্তব্য রেখেছেন, নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্টে বক্তব্য রেখেছেন,  উনি জার্মানির আর্মি হেড কোয়াটারে গিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। এরপরে তিনি বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধানদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন, তিনি পোপের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দেখো আজকে অশান্তি এবং নৈরাজ্যের মূল কারণ মানুষ খোদা থেকে দূরে সরে গেছে। খোদাকে ভুলে গেছে। যদি আমারা সবাই মিলে খোদার কাছে আসতে পারি খোদার কাছে নত হতে পারি তাহলে আমরা এই অশান্তি থেকে রক্ষা পেতে পারি। আল্লাহতাআলা কোরআন শরীফে বলেছেন, আল্লাহতাআলার জিকিরই মানুষকে আত্মিক শান্তি দিতে পারে। আমরা তো আল্লাহতাআলাকেই চিনি না আল্লাহর জিকির আমরা কিভাবে করব। আল্লাহর জিকির মানে সারাদিন আল্লাহু আল্লাহু করা এটা না। আল্লাহর জিকির হচ্ছে আপনি হারাম খাবেন না হালাল খাবেন, আপনি ভালমন্দ বিচার করতে পারবেন, আপনি নিজে শান্তিতে থাকার চেষ্টা করবেন এই কাজগুলোইে আহমদিয়া জামাত করে যাচ্ছে। জামাতের বর্তমান খলিফা হযরত মির্যা মসরূর আহমদ খলীফাতুল মসীহ্ আল্ খামেস (আই.) আমাদের বলছেন যে, শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য তোমরা চেষ্টা করো। আমরা আসলে যদি সমস্যাটা কোথায় সেটা চিহ্নিত করতে পারি তাহলে সমাধানের পথও সহজে খুঁজে পাব। সমস্যা চিহ্নিত করতে না পারলে যতই দৌড়াদৌড়ি করি সমাধানের পথ খুঁজে পাব না। অন্য মোল্লারা, মৌলবাদীরা অন্য মুসলমানরা আমাদের যাই বলুক না কেন আমরা কিন্তু কোরআনের আলোকে কথা বলি। আমাদের ভিত্তি হচ্ছে কোরআন, আমাদের ভিত্তি হচ্ছে হাদিস। হরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সা.) বলেছেন, ইসলাম মানেই শান্তি। এখন আপনিই বলুন আপনার জীবনে যদি শান্তি না থাকে আপনার মাধ্যমে যদি অন্যরা শান্তি না পায় তারপরে যদি নিজেকে বলেন মুসলমান এটা কি ঠিক হলো। প্রত্যেকটা মানুষের প্রত্যেকটা প্রাণির একটা ধর্ম আছে। ধর্ম তাই যা আপনি ধারণ করেন। আপনি যদি বলেন আমি প্রতিনিয়ত ভাল ফল ফ্রুট খাই, আমি স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য প্রতিনিয়ত শরীর চর্চ্চা করি আর আমি এর বিপরীতে কিছুই করি না আমি কোন শরীর চর্চ্চা করি না বাছবিচার করি না, নিয়ম কানুন মানি না। আপনার এবং আমার মধ্যেতো কিছুটা পার্থক্য দেখা যাওয়া উচিত, তাইতো। বাহ্যিকভাবেই দেখা যাওয়া উচিত। আপনার স্বাস্থ্য সুঠাম হবে, আপনার চেহারা সুন্দর হবে, আপনি দীর্ঘ জীবন লাভ করবেন। আমার ক্ষেত্রে সেটার অনুপস্থিত হওয়া উচিত। তো হযরত মোহাম্মদ মোস্তফা (সা.) এর ধর্ম ইসলাম আপনি দাবি করেন আপনি মনে করেন কিন্তু আপনার এবং আমার মধ্যে আচরণগত কোন পার্থক্য দেখি না। আপনার এবং আমার মধ্যে চিন্তা চেতনার কোন পার্থক্য দেখিনা। তাহলে আপনি যদি বলেন যে আমার ধর্ম ইসলাম তাহলে কোন লাভ আছে। বরং যারা ইসলাম মানে না ইহুদি খৃষ্টান তারা ভাল আছে। তারা মিথ্যা কথা বলে না, তারা অন্যের ক্ষতি করে না, তারা কাউকে ঠকায় না। সাধারণ জনগনের কথা বলছি। তাদের মধ্যে সহানুভূতি আছে, তারা মানুষকে শ্রদ্ধা করে। এই সবগুলোই ইসলামের শিক্ষা আর এসবই আমাদের মুসলমানদের মধ্যে অনুপস্থিত। আপনি দেখেন আজকে যত নৈরাজ্য যত অশান্তি এগুলো কিন্তু মুসলমার দেশগুলোর মধ্যে। কোথায় যেন একটা ভুল, হয়তো আমরা যেটা বলছি বা মানছি এর মধ্যে কোন ভুল আছে। কিন্তু আমারা জানি আমাদের ইসলাম যে শিক্ষা এর মধ্যে কোন ভুল নেই। আমরা যা বলছি বা মানছি এই মানার মধ্যে কোন ভুল আছে। এই সমস্যাটা যদি চিহ্নিত করতে পারি তাহলে ইসলাম প্রতিষ্ঠা করা আমাদের জন্য সহজ হয়ে যাবে। 

 

বেঙ্গলি টাইমস : সেন্ট্রাল বাংলা ডেস্ক এটা কবে থেকে শুরু।

আহমেদ তারেক মোবাশ্বের : সেন্ট্রাল বাংলা ডেস্ক এটা অনেক আগে থেকেই শুরু হয়েছে। 

 

বেঙ্গলি টাইমস : অ্যাকটিভলি, আমার ধারণা ছয়-সাত বছর আগে থেকে..

আহমেদ তারেক মোবাশ্বের : না এর আগে থেকে। ১৯৯৬ থেকে অ্যাকটিভলি আমরা কাজ করছি। ১৯৯৪ সাল থেকে লন্ডনে আমাদের যাত্রা আরম্ভ হয়। যেহেতু ঐ সময় আমাদের সূচনা ছিল নড়বড়ে অবস্থা ছিল। ১৯৯৬ সালে যখন ওখানে একজন লোককে মিশনারি হিসেবে পোষ্টিং দেন তখন থেকে আমরা একটিভলি কাজ করছি।

 

বেঙ্গলি টাইমস : আমাদের একটা অবজারভেশন, আমরা দেখি আপনাদের নিজস্ব মিডিয়া আছে সমস্ত কিছু আছে আপনাদের কার্যক্রম আপনাদের মিডিয়া আপনাদের গন্ডিতে বেশি প্রচার হচ্ছে। আমরা এখানে প্রায় দশ বছর যাবত কাজ করছি আহমদিয়া জামাতের এই টিমটির সাথে। আমার ধারণা আমাদের এই কমুনিটিতে আহমদিয়া জামাতের এখানকার একটিভিসগুলো বেশি বেশি করে প্রচার হয়।  এটার একটা সুবিধা হচ্ছে অন্যান্য মানুষ ইজিলি জানতে পারে কি হচ্ছে, বক্তব্যটা কি, কী চিন্তা-ভাবনাটা তাদের। অন্যান্য শহরে কি আপনাদের এরকম কার্যক্রম। নাকি আপনাদের মিডিয়াগুলোই এই পাবলিসিটি করে। 

আহমেদ তারেক মোবাশ্বের : আপনি কি শুধু কানাডার কথাই জানতে চাচ্ছেন নাকি..

বেঙ্গলি টাইমস : না অন্যান্য জায়গার কথা জানতে চাচ্ছি।  কানাডাতে আমি যেমন দেখি যে আমরা এবং অন্যান্য কমুনিটির নিউজপেপারগুলোতো জলসার সময় বা তাদের প্রেস কনফারেন্স হয় সেখানে বিভিন্ন কমিউনিটির সাংবাদিক বা মিডিয়া থাকে। লন্ডন বা অন্যান্য শহরে কি আপনাদের কাজগুলো এভাবে হচ্ছে কিনা।

আহমেদ তারেক মোবাশ্বের : অন্যান্য শহরেও কাজগুলি এভাবেই চলছে। আমি এখানে একটু কথা বলতে চাই, এখন কমার্সিয়াল যুগ। পত্রপত্রিকাগুলোও নিজেদের ব্যবসা করছে। প্লিজ আপনি আমার কথাটা অন্যভাবে নিবেন না। এজন্য তারা কোন রমরমা রগরগা কোন ছবি বা ঘটনা এটাকে তারা হাইলাইট করে। আজকে সারা পৃথিবীতে মুষ্টিমেয় কিছু লোক ইসলামকে বদনাম করার জন্য জেহাদের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চাচ্ছে। আমি মুষ্টিমেয় বলব। সারা পৃথিবীতে যদি কোটি কোটি মুসলমান থাকে তবে তাদের সংখ্যা হবে কয়েক হাজার। কিন্তু মিডিয়া এই কয়েক হাজার লোকেকে যে প্রেফারেন্সটা দিচ্ছে এই যে কোটি কোটি লোক যারা শান্তির পক্ষে কথা বলছে তাদের কিন্তু এই সুযোগটা দিচ্ছে না। আমরা সারা পৃথিবীতে বিশাল পর্যায়ে আমরা শান্তি সম্মেলন করি ছোট পর্যায়ে করি দেশীয় পর্যায়ে করি আন্তর্জাতিক পর্যায়েও করি। কিন্তু সেই কভারেজটা আমরা পাইনা। কেন জানেন, এই কভারেজটা দিলে তাদের পত্রিকার কাটতি বাড়ে না। তাই মিডিয়ার যেই লোক আছে, আপনি দেখেন যারা সাংবাদিক তারা কিন্তু সমাজের প্রতিনিধিত্ব করছে। তারা কিন্তু সমাজের চিত্র মানুষের কাছে তুলে ধরার দায়িত্বপ্রাপ্ত। তাদের একটা রেসপনসিবিলিটি আছে। তারা যদি তাদের পেশাটাকে দায়িত্ব হিসেবে না নিয়ে বাণিজ্য হিসেবে নেয় তাহলে এই সমস্যাটার মধ্যে আমরা পড়ি। যে কারণে আমরা বাধাগ্রস্ত হই। আমরা ভাল ভাল কথা বলে যাচ্ছি। কোটি কোটি মানুষ বলে যাচ্ছে ইসলামে এই শান্তি কোরআনে এই শান্তি, মুষ্টিমেয় কয়েকহাজার লোক দুষ্ট কাজ করছে সেই কয়েক হাজার দুষ্ট লোকের কাজটাকে তারা হাইলাইটস করবে তাদের পত্রিকার কাটতি বাড়ানোর জন্য, তাদের সাংবাদিক জীবনের প্রতিষ্ঠার জন্য, তাদের ব্যবসা বাড়ানোর জন্য। কিন্তু লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি মানুষ যে চিল্লাচ্ছে শান্তির পক্ষে এটা তারা করবে না। এখানে আমরা মারটা খেয়ে যাই। আমাদের যে সমস্ত সাংবাদিক ভাইয়েরা আছেন তাদের মন মানসিকতায় একটা পরিবর্তন আসা দরকার। তাদের পেশাগত কাজে সততা বলে যে বিষয়টা আছে সেটাকে বিসর্জন না দিয়ে সততটাকে ধরে রাখা উচিত। এবং এটাকে শুধুমাত্র ব্যবসা মনে না করে সমাজের প্রতি যে দায়বদ্ধতা আছে সেটা মনে করে যদি সে কর্তব্যটা পালন করতো তাহলে আমি মনে করি ঐ সংবাদগুলোর চেয়ে এই সংবাদগুলো বেশি পাবলিসিটি পেত। এটা আমরা পাইনি। এটা দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আমার মনে হয় এটা মানতে আপনি বাধ্য।

 

বেঙ্গলি টাইমস : সর্বশেষ আমি জানতে চাইব যেহেতু আপনি সেন্ট্রাল বাংলা ডেস্কের দায়িত্বে আছেন কানাডার বাংলা ডেস্কের কার্যক্রমের মূল্যায়ন আপনি কিভাবে করবেন  তারা কি গতিতে কাজ করছে কিংবা আপনার কাছে কেমন মনে হচ্ছে।

আহমেদ তারেক মোবাশ্বের : একটা ভাল প্রশ্ন আপনি করেছেন। একটা শিশু যখন হাঁটতে আরম্ভ করে একটু দাঁড়ায় আবার পড়ে যায় আস্তে আস্তেই সে হাঁটা শিখে। এখানে সাত আট বছর ধরে বাংলা ডেস্কের কার্যক্রম শুরু হয়েছে তো আমরা প্রতিনিয়তই আল্লাহতাআলার ফজলে কাজের গতিটা বৃদ্ধি পেতে দেখছি। পেছনে যেতে দেখছি না বা একটা জায়গায় থেমে নেই। এটা এমন একটা কাজ এমন একটা প্রক্রিয়া এটার চুড়ান্ত বলে কিছু নেই। তারা উন্নতি করছে। তবে এখানে উন্নতির আরো যথেষ্ট সুযোগ আছে একথাও বলব। সবচেয়ে বড় আশার কথা হচ্ছে তারা এক জায়গায় থেমে নেই। তারা প্রতিদিন প্রগ্রেস করছেন। এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা যদিও বলি আহমদিয়া জামাত সারা পৃথিবীতে আছে। তবে তুলনামূলকভাবে এখানে বাঙালীদের সংখ্যা কিন্তু কম। তো বাঙালিদের সংখ্যা যদি আরো বেশি হতো তাহলে আমাদের একটিভিটিসটা আরো বেশি হতো। মেনপাওয়ার বাড়লে আমাদের কাজ বাড়তো। এখানে আমরা একটু পিছিয়ে আছি। তবে তুলনামূলকভাবে বাংলা ডেস্ক এখানে ভাল কাজ করছে। 

 

বেঙ্গলি টাইমস : আপনার এবারের যে সফর এটাতো মিশনারির কাজেই আপনি এসেছেন। তো কি কি কাজ করছেন এই সফরে। 

আহমেদ তারেক মোবাশ্বের : এই সফরে আমাকে যে প্রোগ্রামটা দেয়া হয়েছে তার মধ্যে অনেক কাজ রয়েছে। আমাদের যে ভয়েস অব ইসলাম রেডিও রয়েছে এই রেডিওর প্রোগ্রাম আমরা করছি, কিছু টেলিভিশন প্রোগ্রাম রেকর্ড করেছি। এছাড়া আমাদের কমুনিটির যারা মেম্বার আছে তাদের সঙ্গে আমাদের একটা গেটটুগেদার ছিল। আমাদের বাঙালি যারা গ্রেটার টরন্টোতে আছে তাদের সঙ্গে একটা মিটিং হয়েছে সেখানে আমি বক্তৃতা রাখার সুযোগ পেয়েছি। এছাড়া আমাদের কমিউটির লম্বা একটা মিটিং করার সুযোগ পেয়েছি, আরেকটা মিটিং আছে আমাদের সাংগঠনিক কাজকে আরো কিভাবে বেগবান করা যায় এ চেষ্টা করছি। তাছাড়া এখানকার ন্যাশনাল লেভেলে আমাদের জামাতের সিনিয়র যে মেম্বার রয়েছে তাদের একটা প্রোগ্রাম আমার একটা বক্তব্য আছে। এছাড়া এখানে আমাদে যে সকল মেম্বার আছে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তাদের মধ্যে কি দুর্বলতা আছে সেটা চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করছি। তাদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। আমি রিয়েলি হ্যাপি তারাও আমাদের স্বাগত জানাচ্ছে । 

 

বেঙ্গলি টাইমস : বেঙ্গলি টাইমসের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ সময় দেয়ার জন্য।

আহমেদ তারেক মোবাশ্বের : আপনাকেও ধন্যবাদ।

 

 

১৬ অক্টোবর, ২০১৮ ০২:১৯:৩৪