১-২ সেপ্টেম্বর টরন্টোতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে 'বিশ্ব সিলেট সম্মেলন'
দ্য বেঙ্গলি টাইমস ডটকম
অ+ অ-প্রিন্ট
জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব টরন্টো আগামী ১-২ সেপ্টেম্বর কানাডার টরন্টোতে ৪র্থ বিশ্ব সিলেট সম্মেলন ২০১৮ আয়োজন করতে যাচ্ছে। আয়োজক সংগঠনটি জানায়, এ সম্মেলন উৎসর্গ করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি মহম্মদ আতাউল গনি ওসমানীকে। প্রধান অতিথি থাকবেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। অন্যান্যদের মধ্যে অধ্যাপক কাজী খলিকুজ্জমান আহমেদ, এ কে এ মোমেন, রাশেদা কে চৌধুরী ও ইনাম আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব টরন্টোর সভাপতি দেবব্রত দে তমাল জানিয়েছেন, সিলেট থেকে অনেক দূরে থেকেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যারা সিলেটি ঐতিহ্য ও ভালোবাসাকে জাগিয়ে রেখেছেন তাদের জন্য সবচেয়ে প্রয়োজন একটা মিলন মেলার শুভ আয়োজন। সম্মেলনে কানাডাসহ বাংলাদেশ, ভারত, কানাডা, যুক্তরাজ্য, জাপান, জার্মানী, মধপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দেশ থেকে অনেকেই অংশগ্রহণ করবেন।

সম্মেলনে থাকবে সংগীত, নৃত্য, মিলনমেলা, আত্মকথা, পরিচিতি, শুভেচ্ছা বিনিময়, প্রজন্মের অনুভূতি, শিকড়ের সন্ধানে, সিলেটি খাবার ও অন্যান্য স্টল।

উল্লেখ্য, জাতিধর্ম-নির্বিশেষে সিলেটের বাঙালিরা নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধরে রাখার জন্য ১৯৪৭ সালে ভারত-পাকিস্তান ভাগ হওয়ার আগ পর্যন্ত ‘সিলেট সম্মেলন’ নাম দিয়ে একটি সমাজ উন্নয়ন কর্মসূচি ও মিলনমেলার আয়োজন করছিলেন। সিলেটের মানুষ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়া সত্ত্বেও নিজস্ব ঐতিহ্যের আলোয় উদ্ভাসিত হন। তার সূত্র ধরে কয়েক বছর আগে কলকাতায় দক্ষিণ কলকাতা সিলেট অ্যাসোসিয়েশন ‘সিলেট উৎসব’ নাম দিয়ে শুরু করে একটি কার্যক্রম। কলকাতায় শুরু হলেও তারা বাংলাদেশের মানুষ ও ঢাকার জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনকে সম্পৃক্ত করে। পরের বছর অর্থাৎ ২০১৬ সালে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ঢাকায় এবং সিলেটে বৃহৎ আকারে ‘আন্তর্জাতিক সিলেট উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৭ সালে জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার উদ্যোগে নিউইয়র্ক শহরে অনুষ্ঠিত হয় ‘বিশ্ব সিলেট সম্মেলন’। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিল সিলেটের উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়া সিলেটি জনগোষ্ঠীর মধ্যে একটি সংযোগ স্থাপনের প্রচেষ্টা। পৃথিবীর বহু জায়গা থেকে সিলেটি ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী মানুষের আন্তরিকতায় ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জন্ম নেয় একটি আন্দোলনের। হাজার হাজার মানুষের গুঞ্জরণে রচিত হয় একটি অভূতপূর্ব অধ্যায়। এই সম্মেলনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল প্রবাসীদের সম্পৃক্ততায় সিলেটের সর্বাধিক উন্নতির জন্য চিন্তাভাবনা। এজন্য আয়োজন করা হয়েছিল কয়েকটি সেমিনারের। আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল বিভিন্ন পেশার তরুণ পেশাজীবীদের সেমিনারে অংশগ্রহণ এবং তাঁদের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় ভবিষ্যতের কার্যপ্রণালি প্রণয়নের চিন্তাভাবনা। দেশের সর্বাঙ্গীণ উন্নতি তখনই সম্ভব, যখন শুধু সরকারের ওপর দায়-দায়িত্ব না দিয়ে সব মানুষ কমপক্ষে নিজের অঞ্চলে কাজ করার জন্য উৎসাহিত হয়। প্রবাসীদের বেলায় এটি আরও প্রযোজ্য। ২০০৮ সালে ঢাকায় প্রথম বৃহৎ অনাবাসী (এনআরবি) সম্মেলনে যে অনুপ্রেরণা উৎসারিত হয়েছিল, আজ তার বহিঃপ্রকাশ হবে, যদি অনাবাসীরা নিজস্ব অঞ্চলের উন্নতির জন্য উদ্যোগ নেন। সিলেট বিশ্ব সম্মেলন শুধু সিলেটি মানুষের আঞ্চলিক মিলনমেলা নয়, এটা সব বাঙালির বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার একটি মিলনমেলা। এবার কানাডার টরন্টোতে ‘বিশ্ব সিলেট সম্মেলন’ আরেকটি ধাপ এগিয়ে গেছে। এবারে সত্যি সত্যিই বিশ্ব সম্মেলনের অনুভাবে সাজানো হয়েছে সম্মেলন; যেন ভবিষ্যতে এর গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়ে। 

২৯ আগস্ট, ২০১৮ ০৬:৩৪:৪৫