বিসিসিবি ‘বাই অ্যান্ড সেল’ – পটভুমিকা, ইতিবৃত্ত ও ভবিষ্যৎ
আরিফ চৌধুরি
অ+ অ-প্রিন্ট
পটভুমিকা

ঘটনা ১:  ক্রিং ক্রিং ক্রিং...... বিসিসিবি ফাউনডার, রিমন মাহমুদ এর সেলফোন বেজে উঠলো । 

 

রিমন মাহমুদ: হ্যালো !

ওপাশ থেকে সুমনা (কাল্পনিক) সালাম এবং নিজের পরিচয় দিয়ে কথা শুরু করলেন। উনি গুএলফ নিবাসী, কল করার উদ্দেশ্য স্রেফ ধন্যবাদ জানানো । জানালেন ওনারা কতটা সাহায্য পেয়েছেন বিসিসিবি ‘বাই অ্যান্ড সেল’ গ্রুপ সৃষ্টি হওয়াতে । উনি বলে যেতে থাকলেন কিভাবে এই ফেসবুক গ্রুপটি ধীরে ধীরে  ওনাদের জীবনের গতিপথ কিছুটা হলেও পালটে দিয়েছে। জানালেন কীভাবে ওনার অনলাইন ব্যাবসা সফলতার সাথে এগিয়ে চলছে। রিমন মাহমুদ মন্ত্রমুগ্ধের মতো সব শুনলেন। বললেন ‘এটাই তো আমরা চেয়েছিলাম, এই ফোরামটি তৈরির উদ্দেশ্য এখন একটু হলেও সফল বলে মনে হচ্ছে। আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানানোর জন্য ।  পরবর্তীতে রিমন মাহমুদ এই ব্যাপারটি শেয়ার করেন বিসিসিবির হাজারো সদস্যদের সাথে। 

ঘটনা ২:  কিছুদিন আগে রিমন ভাই এক বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। বাসার সবার সাথে ভাব বিনিময় চলার এক পর্যায়ে হটাত শারমিন (কাল্পনিক) বিসিসিবি ‘বাই অ্যান্ড সেল’ গ্রুপ এর কথা বলা শুরু করলেন, উনিও রিমন ভাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানালেন এই গ্রুপটি সৃষ্টি করার জন্য। রিমন ভাই বিস্তারিত জানতে চাইলে জানালেন, উনি ওনার ডাইনিং টেবিল আর চেয়ার গুলো বিক্রির জন্য একটা পোস্ট দিয়েছিলেন আর চার দিনের মধ্যে সবকয়টি ফারনিচারই বিক্রি হয়ে যায়। গ্রুপটির জন্য অনেক শুভকামনাও জানালেন। রিমন ভাই অনেক ভাল লাগার সাথে বললেন, ‘এর জন্যই আমরা ‘বাই অ্যান্ড সেল’ গ্রুপটি তৈরি করেছিলাম’। লিখলেন তার মনের কথন হাজারো বিসিসিবিয়ানদের অবগতির জন্যে।    

 

ইতিবৃত্ত

এবার ফিরে দেখা যাক কিভাবে বিসিসিবি ‘বাই অ্যান্ড সেল’ গ্রুপ এর সৃষ্টি এবং উত্থান। ২০১৩ সনের ২৩শে অক্টোবর কাজী নেমা (বর্তমানে বিসিসিবি এবং বিসিসিবি ওমেন এর সম্মানিত সদস্য) একটি গ্রুপ তৈরি করেন এবং নাম দেন ‘ডিভাস বসন’ । বেশ কিছু সদস্য নিয়ে ফোরামটি ধীরে ধীরে এগিয়ে চলছিল আপন গতিতে। 

সন ২০১৬, বিসিসিবির (বাংলাদেশি কানাডিয়ান - কানাডিয়ান বাংলাদেশি) সদস্য সংখ্যা এবং কার্যক্রম ধীরে ধীরে বেড়ে চলছিল। বিসিসিবিতে এক সময়ে নিয়মিত বিজ্ঞাপন দেয়া হত, তবে এক পর্যায়ে এসে এটি অনেক সদস্যদের  চাহিদার স্বার্থে বিজ্ঞাপন দেয়া বন্ধ করে দেয় (বিসিসিবির নিজস্ব সাপোর্ট ব্যাতিত)। পরবর্তীতে বিসিসিবি এই সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করে এই কারনে যে, বিসিসিবি মনে করে এর সম্মানিত সদস্যদের মাঝে যারা উদ্যোক্তা ও ব্যাবসায়ি আছেন তাদেরও সমর্থন পাওয়ার অধিকার রয়েছে।  তাই সেইসব উদ্যোক্তা ও ব্যাবসায়িদের চাহিদার সুবিধার্থে  বিসিসিবি একটি নতুন ফোরাম এর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে। চিন্তা ভাবনা চলছিল কিভাবে এটা করা যায়? মেইন ফোরামে বিসিসিবিয়ানরা স্রোতধারার মতো বিজ্ঞাপন দেখতে চাননি কিন্তু আমাদের ক্ষুদে ব্যাবসায়িদের কথাতো ভুলে যাওয়া ঠিক হবে না! ঠিক সেই সময়ে এগিয়ে আসেন কাজী নেমা, দৃষ্টান্তকারি উদাহরন সৃষ্টির মাধ্যমে ‘ডিভাস বসন’ আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয় বিসিসিবির সাথে। কাজি নেমা (রুপা) ভাবী চেয়েছিলেন – সবাই মিলেই এক কাজ হোক। এক ছাদের নীচে সবাই যেন এক হন। তাই তিনি বলেছিলেন আলাদা ভাবে না করে দুটি ফোরাম এক ভাবেই কাজ করুক, এক প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলুক। কাজি নেমা সম্ভবত পুরো কানাডাতেই বাংলাদেশী কানাডাীয়ান দের মধ্যে এই প্রথম আরেকটি সংগঠনের সাথে যুক্ত হতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। 

সেভাবেই পরিকল্পনা ছিল দুটি ফোরাম এক হবে, সব কিছু ঠিক ভাবেই চলছিল। পরিকল্পনায় ছিল - ‘ডিভাস বসন’ এর সব সদস্যরা বিসিসিবি তে সংযুক্ত হবেন। কিন্তু বিধি বাম, যখন রিমন ভাই আর কাজি নেমা সমন্বয়ের শেষ পর্যায়ে, এমনকি, একটি বিবৃতিও তৈরি, ঠিক সেই সময় রিমন ভাই জানতে পারেন, ফোরামটিতে মাঝে মাঝে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। ব্যাপারটা আপাত দৃষ্টিতে সাধারন হলেও বিষয়টা জটিল, বিসিসিবিতে বিজ্ঞাপন দেওয়া হয় না। অর্থাৎ যখন ফোরামটি বিসিসিবিতে যুক্ত হবে, এর কিছু সদস্য আর তাদের অনলাইন ব্যাবসা প্রচার করতে পারবেন না। জিনিশটা রিমন ভাই মেনে নিতে পারেননি। বিসিসিবিকে দৃঢ় করতে গিয়ে অন্য কারো ব্যাবসাতে – হোক না তা যতই ক্ষুদ্র, আঘাত করাটা ঠিক হবে না। 

রিমন ভাই তখন প্রস্তাব দিলেন, ফোরামটি থাকুক, শুধু নাম বদলিয়ে ‘বিসিসিবি বাই ্ সেল’ হবে। এতে করে যা হতো অল্প স্বল্প তাই হবে দৃঢ় ভাবে। একি সাথে বিসিসিবির বিজ্ঞাপন দেওয়ার সমস্যাটির একটি সুন্দর সমাধান পাওয়া যাবে। শুরু হয় নতুন পথ চলা, নাম হয় ‘বিসিসিবিঃ ‘বাই অ্যান্ড সেল’। এই ফোরামে সকল সদস্য কোন বিধিনিষেধ ছাড়াই নিজেদের ব্যাবসার বিজ্ঞাপন বিনা মূল্যে দিতে পারে। ২০১৬ সনের অক্টোবর মাসে যখন এর যাত্রা শুরু হয় তখন এর সদস্য সংখ্যা এক হাজার এর নীচে ছিল। আজ ২০১৮ সনের মে মাসের শুরুতে এর সদস্য সংখ্যা ছাড়িয়েছে দশ  হাজার। আর এভাবেই ‘বিসিসিবিঃ ‘বাই অ্যান্ড সেল’ আজ এই পর্যায়ে এসে উপনীত হয়েছে।  

 

সদস্যপদ  

শুরুতে এটি শুধু বিসিসিবিয়ান্ দের জন্য উন্মুক্ত ছিল। 

পরবর্তীতে অনুরোধের প্রেক্ষিতে (একজন বিসিসিবিয়ান) নিয়ম পরিবর্তন করা হয়। 

এক পর্যায়ে এসে অনুধাবন হয় যে, চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো ‘ক্রেতা কিনবে, বিক্রেতা বিক্রি করবে’। তারা বিসিসিবিয়ানের কাছ থেকে কিনছে, নাকি কানাডিয়ানের কাছে বিক্রি করছে সেটা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। 

তখনই চিন্তাটা এল, যদি সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়, চূড়ান্ত লক্ষ্য ঠিক থাকে কিনা। 

সবাই মিলে তখন এই সিদ্ধান্তে আসে, যত বেশি ক্রেতা ও বিক্রেতা হবে ততো বেশি ক্রয় বিক্রয়ের সম্ভাবনা।

অধিক বিক্রেতা মানে অধিক প্রস্তাব, অধিক ক্রেতা মানে অধিক বিক্রয়। 

বিস্তারিত নিয়মকানুন বিসিসিবি ‘বাই অ্যান্ড সেল’ ফোরামে দেয়া আছে 

 

অতঃপর, সর্বসম্মতিক্রমে বিসিসিবি ‘বাই অ্যান্ড সেল’ ফোরাম সকল কানাডিয়ান ও বাংলাদেশীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয় (কিছু কিছু ক্ষেত্রে অন্যান্য দেশের নাগরিকদেরও ব্যাবসার সুবিধা দেয়া হয়েছে, এর ফলে ক্রেতা বিক্রেতা দুইপক্ষই লাভবান হতে পারছে)। আমরা এরকম উদাহরণও দেখেছি যে একজন বিসিসিবিয়ান যিনি বাংলাদেশ থেকে পণ্য বিক্রয় করেছেন এবং সেখানে ক্রয়ের ক্ষেত্রেও সাহায্য করেছেন, উনি এখন একজন গর্বিত কানাডিয়ান পার্মানেন্ট রেসিডেনটের অধিকারি। 

 

ভবিষ্যৎ

বর্তমানে বিসিসিবি ‘বাই অ্যান্ড সেল’ সদস্য সংখ্যার বিচারে বিসিসিবির দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং কানাডার বাংলাদেশি     কমিউনিটির বৃহত্তম অনলাইন ‘বাই অ্যান্ড সেল’ ফোরাম। প্রতিদিনই এর সদস্য সংখ্যা বেড়ে চলেছে। ২০১৮ সন কে ঘিরে বিসিসিবি ‘বাই অ্যান্ড সেল’ এর নতুন কিছু পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, চূড়ান্ত লক্ষ্য হলো কিভাবে সবার জন্য ফোরামটি আরও সুবিধাজনক করা যায়, আরও নতুনভাবে উপস্থাপন করা যায়। 

বিসিসিবি ‘বাই অ্যান্ড সেল’ এর জন্য অন্তরের অন্তস্থল থেকে শুভকামনা রইল। সেই সাথে সবার কাছে আন্তরিক অনুরোধ রইলো আপনারা সবাই যেন আপনাদের পরিচিত ফেসবুক ফ্রেন্ডদেরকে এই ফোরামটিতে অ্যাড করেন। নীচে গ্রুপ এর লিঙ্ক দেয়া হলো। 


শেষ করছি চার লাইন এর একটি ছড়া দিয়ে, সবাই ভাল থাকবেন।

“নয় শুধু নয় রে, বিসিসিবি নয় 

বাই সেল ছাড়া কি বিসিসিবি হয়?

সবাই স্বাধীন যেথা নেই কোন দায়

বেচাকিনি হাট দেখে মন ভরে যায়”  

 

 

 

 

০৮ মে, ২০১৮ ২২:০২:১৯