বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কানাডার ভুমিকা
ইমাম উদ্দিন
অ+ অ-প্রিন্ট
একাত্তরে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কানাডার ভুমিকা ছিল প্রশংসনীয়। জাস্টিন ট্র‍ুডোর পিতা পিয়েরে ট্র‍ুডো তখন প্রধানমন্ত্রী। একদিকে পাকিস্তানের সাথে তখন কানাডার চমৎকার সম্পর্ক বিরাজমান। অন্যদিকে আমেরিকার নিক্সন সরকার সমর্থন দিচ্ছিল পাকিস্তানকেই। এই অবস্থায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ পিয়েরে ট্র‍ুডোর কাছে ছিল অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং।

শেষ পর্যন্ত এই চ্যালেঞ্জটাই নিয়েছিলেন পিয়েরে ট্র‍ুডো। তিনি একটি সংসদীয় প্রতিনিধি দল পাঠান ভারতে। মুলত বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে আসা লক্ষ লক্ষ শরনার্থীর প্রকৃত অবস্থা সরেজমিনে দেখা। তিন সদস্যের এ সংসদীয় প্রতিনিধিদল ফিরে এসে ১৯ জুলাই ১৯৭১ এ রাজধানী অটোয়াতে একটি বিবৃতি প্রদান করে। এতে বলা হয় প্রায় ৬০/৭০ লাখ বাংলাদেশী প্রাণের ভয়ে ভারতে পালিয়ে এসেছে। পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী বাংলাদেশের নিরস্ত্র মানুষের উপর যে নির্মম অত্যাচার চালাচ্ছে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া দরকার। প্রতিনিধি দল বলেন, “আমরা অনেক শরণার্থীর সাথে কথা বলেছি। তাঁদের কেউ কেউ আমাদের জানিয়েছেন, প্রায় দশদিন হেঁটে তাঁরা সীমান্ত পার হয়েছেন। অনেকের বাড়ী ঘর পশ্চিম পাকিস্তানী সামরিক বাহিনী পুড়িয়ে দিয়েছে। স্বজন হারিয়েছেন অনেকেই। জীবন বাঁচাতে তাঁরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন।বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে কানাডার ভুমিকা

ভারতে আশ্রয় নেওয়া বাংলাদেশী শরনার্থীদের জন্য ২০০ মিলিয়ন ডলারের মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য সরকারে প্রতি এই সংসদীয় প্রতিনিধিদল অনুরোধ জানান। একই সাথে তাঁরা কানাডিয়ান জনগণকেও এব্যাপারে এগিয়ে আসার আহবান জানান। প্রতিনিধিদল কানাডিয়ান সরকারের প্রতি আহবান জানান যাতে সরকার এককভাবে অথবা অন্যান্য দেশের সাথে একজোট হয়ে জাতিসংঘে বিষয়টা উত্থাপন করে এবং বাংলাদেশীদের মানবিক সহায়তায় এগিয়ে আসে। “to bring question to attention of the UN as conscience of mankind stressing the right of humanitarian intervention on behalf of world community and willingness of the UN to make available observers to supervise and encourage … refugees from West Bengal to East Pakistan.”

কানাডীয়ান সংসদীয় প্রতিনিধিদল পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক গোষ্ঠীকে সত্ততরের নির্বাচনী ফলাফলের আলোকে ক্ষমতা জনপ্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর অথবা বাংলাদেশের জনগণকে তাদের নিজ ভাগ্য নির্ধারনের সুযোগ দেওয়ার জন্য চুড়ান্তভাবে অনুরোধ জানায়। আর এ অবস্থা চলতে থাকলে প্রধানমন্ত্রী পিয়েরে ট্র‍ুডো যেন পশ্চিম পাকিস্তানের উপর অস্ত্র অবরোধ আরোপ করেন। কানাডীয়ান সংসদীয় প্রতিনিধিদলে ছিলেন এমপি জর্জেস লুচেন্স, হিথ ম্যাকেরী ও এন্ড্র‍ু ব্র‍ুয়েন। প্রতিবেদনটি পাবেন এই লিংকে http://www.profilebengal.com/0719_71_canadian_delelgation.htm

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন ও ভুমিকার জন্য পিয়েরে ট্র‍ুডোকে মরণোত্তর সন্মানণা প্রদান করা হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাস্টিন ট্র‍ুডোর কাছে একটি ক্রেস্ট হস্তান্তর করেন তাঁর কানাডা সফরকালে। কানাডা বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ১৪ ফেব্র‍ুয়ারি ১৯৭২ সালে। আর একই বছর মে’ তে বাংলাদেশ হাই কমিশন অটোয়ায় মিশন খুলে। বাংলাদেশে কানাডিয়ান হাই কমিশন কাজ শুরু করে ১৯৭৩ সালের সেপ্টেম্বর থেকে।

 

লেখক, বেঙ্গলী ইফরমেশন এন্ড এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিসেস এর নির্বাহী পরিচালক

১১ ডিসেম্বর, ২০১৭ ১২:২৭:৪৩