কানাডায় ‘জন্ম ঝড়ের বাংলাদেশ’ গ্রন্থের আলোচনা
অ+ অ-প্রিন্ট
কানাডায় যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নূরুন নবী রচিত বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গ্রন্থ ‘জন্ম ঝড়ের বাংলাদেশ’ নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

স্থানীয় সময় শনিবার সন্ধ্যায় কানাডার টরন্টোর মিজান কমপ্লেক্স অডিটোরিয়ামে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

আলোচনা সভাটির সভাপতিত্ব করেন আসাদ চৌধুরী ও সঞ্চালনা করেন দেলওয়ার এলাহী।

 

নূরুন নবী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন সংগঠক ছিলেন। তার স্ত্রী জিনাত নবীও সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। বর্তমানে তারা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।

 

‘জন্ম ঝড়ের বাংলাদেশ’ গ্রন্থটি নিয়ে আলোচনা করেন কথাশিল্পী সালমা বাণী, সাহিত্যিক ও গবেষক সুব্রত কুমার দাস, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক তাজুল মোহাম্মদ, কবি দিলারা হাফিজ ও লেখক নূরুন নবী।

 

কবি আসাদ চৌধুরী বলেন, “নূরুন নবী শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধাই না, বরং একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিজ্ঞানীও। একজন বিজ্ঞানী নূরুন নবীর আবিষ্কৃত পেটেন্টই ৫৫টি। ভাগ্যিস, আমরা তাঁকে কাছে পাই।”

 

তিনি আরও বলেন, “দুর্নীতি পরিহার করে, বৈষম্য ভুলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় এখনই আমাদের জাতীয় স্বার্থে সকলে মিলে কাজ করা ছাড়া এতো বড় ত্যাগের বিনিময়ে মুক্তিযুদ্ধের সফলতার স্বাধীন বাংলাদেশের সাফল্য পাওয়ার আর কোনো বিকল্প পথ নেই।”

 

কথাশিল্পী সালমা বাণী বলেন, “সাহিত্য মর্যাদায় ‘জন্ম ঝড়ের বাংলাদেশ’ গ্রন্থটি যেমন উত্তীর্ণ, তেমনি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটেও তুলনাহীন।”

 

লেখক সুব্রত কুমার দাস বলেন, “নিজে অনেক ঘটনার সাথে জড়িত, এমনকি স্বয়ং ঘটনার নায়ক হয়েও কীভাবে ‘আমি’কে আড়াল করতে হয়, লেখক এই গ্রন্থে তা দেখিয়েছেন।”

 

তিনি আরও বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের অনেক নায়কের অনেক কালো অধ্যায় ও ঘটনার কথা আমরা শুনেছি। নিজের দ্বিধান্বিত মনে অনেক প্রশ্ন জমা ছিল। উত্তর পাইনি। এই বইটি পাঠ করে সেই উত্তর যেমন পেয়েছি, তেমনি মনে জমে থাকা অনেক সংশয় দূর হয়েছে।”

 

মুক্তিযুদ্ধ গবেষক তাজুল মোহাম্মদ বলেন, “এই অমর কাহিনীগল্প শুধুই গল্প নয়, একটি জাতির ইতিহাসও। এই গ্রন্থের কাহিনীকার এমন এক ব্যক্তি, যিনি ষাটের দশক থেকে ছাত্র আন্দোলনের সাথে জড়িত থেকে স্বাধীনতা সংগ্রামের যুদ্ধে নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন।”

 

কবি দিলারা হাফিজ বলেন, “হৃদয় ছোঁয়া বর্ণনায় আমাদের সবচেয়ে গৌরবের দিনগুলোর ঐতিহাসিক ঘটনাবলির সংকলন এই গ্রন্থটি। আমার কাছে নূরুন নবী শুধু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাই নন, আমার স্বামী কবি রফিক আজাদের সহযোদ্ধা হিসেবে আলাদা মর্যাদায় আসীন। আমি তাঁকে অভিবাদন জানাই এই গ্রন্থটি রচনার জন্য।”

 

এ সময় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সেলিনা সিদ্দিকী সুশু ও শিল্পী সৈয়দ ইকবাল।

 

নূরুন নবীর স্ত্রী জিনাত নবী তার শুভেচ্ছা বক্তব্যে বলেন, “নূরুন নবীর সাথে পরিচয়, পথ চলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে। ছাত্র রাজনীতির দুটি আদর্শিক দলের সাথে আমরা দু’জন যুক্ত ছিলাম। কিন্তু আমাদের পারস্পরিক সম্মান-শ্রদ্ধা প্রকাশে দলের ভিন্ন আদর্শ কখনোই বাধা হয়নি। আমরা দু’জনেই দুইভাবে মুক্তিযুদ্ধের সাথে যুক্ত ছিলাম।”

 

আলোচনা সভার আয়োজক ও উপস্থিত অতিথিদের শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখক নূরুন নবী বলেন, “আমি নিজের দায়িত্ববোধ থেকে মুক্তিযুদ্ধের অজানা কাহিনী লিপিবদ্ধ করে যাচ্ছি নতুন প্রজন্মের জন্য। যাতে তারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অনেক অজানা অথচ সত্য কাহিনী জানতে পারেন।”

১২ অক্টোবর, ২০১৭ ০৫:৪৯:০৪