টরন্টোতে ছায়ানট সংগীত বিদ্যায়তন এলামনাই এসোসিয়েশনের বর্ষবরণ
অ+ অ-প্রিন্ট
টরন্টো তে “ছায়ানট সংগীত বিদ্যায়তন  এলামনাই এসোসিয়েশন”  এর অনুষ্ঠান একটু ভিন্ন আঙ্গিকে পরিবেশিত হয় বলে প্রতি বছর টরন্টোবাসি এই অনুষ্ঠান দেখার জন্য অপেক্ষায় থাকে। ঢাকার রমনার বট  মূলের বর্ষবরণ  অনুষ্ঠানের সেই একই অনুভূতি আর আনন্দ উপভোগ করার জন্য প্রবাসী বাঙালী দর্শক-শ্রোতারা ছুটে আসেন ছায়ানট প্রাক্তনিদের এই আয়োজনে। এই সংগঠনটি টরোন্টোতে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান শুরু করে প্রথম ২০০৩ ইং সালে এবং তারপর থেকে প্রতি বছরই ভিন্ন থিম, ভিন্ন পোশাক , ভিন্ন মঞ্চসজ্জা এবং  নতুন নতুন গানের সমাহার নিয়ে উপস্থিত হয় প্রাক্তনি সব শিল্পীরা।

 প্রতিবারের  মতো এবারেও গত ১৫ই এপ্রিল শনিবার টরন্টো তে হয়ে গেল  এই সংগঠনের বাংলা বর্ষবরণ ১৪২৪ এর অনুষ্ঠান।  অংশ গ্রহণে ছিলেনঃ আনোয়ার কবির রুমি, ইয়াসমিন আনাম বিন্দু, জীবনা সঞ্চিতা হক, মামুন কায়সার, জুলফিয়া আহমেদ ইন্টু , মালেকা নাসরিন রোজী, নিঘাত মুর্তজা শমী, রিতু মীর, দিল আফরোজ রুমা, সারাহ বিল্লাহ, সুরাইয়াক হাসান সাদি, জ্যানেট মেরি গোমেজ, ফারহানা রাশেদ মিতা, আশরাফুল বারী মঞ্জু, বিজয় দেবনাথ, অপূর্ব হক, আয়শা আক্তারী জলি , শাহানা আফরোজ সোমা, সৈয়দ মোঃ আশফাকুর রহমান স্বপন , আবৃতি তে  ছিলেন  রাশিদা মুনির ও ডঃ মাহমুদুল আনাম। এবারে অতিথি নৃত্য শিল্পীদ্বয় ছিলেন ডঃ মুকুর দে ও পারমিতা রায়। যন্ত্র সমন্বয়ে ছিলেনঃ তানজীর আলম রাজীব (তবলা), মামুন কায়সার (কিবোর্ড), পল হালিম (গিটার)।  এ ছাড়াও শাহানা আফরোজ সোমা এঁকেছেন প্রচ্ছদ, শব্দ নিয়ন্ত্রণ এর দায়িত্বে ছিলেন জনাব কুশল খান্না  আর ফোটোগ্রাফির দায়িত্বে ছিলেন জনাব বাবর আনোয়ার। মনোমুগ্ধকর মঞ্চ সজ্জাটি  করেছেন মুনিক আনাম। প্রতিবারের মতো এবারও “এশিয়ান টেলিভিশন নেটওয়ার্ক (ATN )” এই পুরো অনুষ্ঠানটি সম্প্রচার করছে এবং সেখানে ছায়ানটের পক্ষে  রিপোর্টিং করেছেন সুমি রহমান। টরন্টোতে ছায়ানট সংগীত বিদ্যায়তন  এলামনাই এসোসিয়েশনের বর্ষবরণ
টরন্টোতে ছায়ানট সংগীত বিদ্যায়তন  এলামনাই এসোসিয়েশনের বর্ষবরণ

পঞ্চ কবির গান, স্বদেশ আর বাউল অঙ্গের গানের মিশ্রণ ছিল এবারের অনুষ্ঠানের অলঙ্কার। শিল্পীরা  চমৎকার পরিবেশনা মুগ্ধ করেছে প্রতিটি দর্শককে। প্রতিটি শিল্পীই  দক্ষতা দেখিয়েছেন তাদের নিজ নিজ পরিবেশনার মাধ্যমে।  মঞ্চে উপস্থাপন সব শিল্পীদের পোষাক ও সাজসজ্জা ছিল দৃষ্টি কাড়ার মতো।  তবলা আর মৃদু বাদ্যযন্ত্রের ঝঙ্কার দিয়ে কবিতা "পালকির গান"  এর আবৃতি পরিবেশনা  ছিল অসাধারণ। এ ছাড়াও, আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাতি “অনির্বান কাজী” কে  এই অনুষ্ঠানে ছায়ানট টরন্টো ফুলের শুভেচ্ছা দিয়ে স্বাগতম জানান। বিরতীর সময় দর্শকদের ভীড় ছিল বৈশাখী মেলার আয়োজনের আকর্ষণীয় বাহারি স্টল, শাড়ী-চুড়ি  আর  সুস্বাদু  দেশী খাবারের প্রতি। সব মিলিয়ে বৈশাখের দেশী আমেজে ছিল পুরো সময়টা ভরপুর।

আগামী বছর বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের আগাম আমন্ত্রন রইলো। আগামী বৈশাখের রমনা বটমূলের ভোরের সেই আনন্দ আর আমেজ পেতে চলে আসুন শনিবার ১৪ই এপ্রিল ২০১৮ ইং (১লা বৈশাখ ১৪২৫)। আপনারা স্বপরিবারে সবাই আমন্ত্রিত। 

 

০৫ মে, ২০১৭ ১১:৩৩:০১