শুদ্ধভাবে বাংলা লেখা
প্রবাসে একটি প্রয়োজনীয় কর্মশালা
অ+ অ-প্রিন্ট
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের একাংশ...ছবি: মাহবুবুল হক ওসমানী
হালকা তুষারপাতে শীতল শহর। শীতের তীব্রতা মাইনাস ১১ ডিগ্রি। এমনই এক শীতসন্ধ্যায় অডিটোরিয়ামের অভ্যন্তরে প্রবাসী বাঙালি এবং বাংলা ভাষার উষ্ণ প্রাণের স্পন্দন। আর এই স্পন্দন “শুদ্ধভাবে বাংলা লেখা” কর্মশালার আয়োজনকে ঘিরে - যার উদ্যোক্তা টরন্টোর সাহিত্য সংগঠন বেঙ্গলি লিটারারি রিসোর্স সেন্টার।

ভাষার মাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে গত ৫ ফেব্রুয়ারি টরন্টোর ড্যানফোর্থের মিজান অডিটোরিয়ামে প্রতিষ্ঠিত ও নবীন লেখকসহ ছিলেন সাহিত্যচর্চায় আগ্রহী পাঠকও। কর্মশালার সভাপতি বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ বাংলা অভিধান ব্যবহারের  প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “অনেক সময় আমি প্রত্যেকবার ডিকশনারি দেখি। অনেক সময় আমি একবার লিখতে তিনবারও অভিধান দেখি। বার বার অভিধান দেখাতে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই।" বাংলাভাষায় এখনও প্রযুক্তির কিছুটা ঘাটতির কারণে যে সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হতে হচ্ছে, অচিরেই মেধাবী বাঙালি তরুণ প্রজন্মের মাধ্যমে আরও সহজভাবে ব্যবহারযোগ্য সফ্টওয়ার উদ্ভাবন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

বিএলআরসির প্রধান নির্বাহী লেখক এবং গবেষক সুব্রত কুমার দাস-র উপস্থাপন দিয়ে শুরু হয় কর্মশালার মূল পর্ব। তিনি স্লাইড প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রতিদিনের লেখায় বানান এবং শব্দের ব্যবহারে যে সমস্যাগুলো লেখার গতিকে কিছুটা শ্লথ করে দেয় সে বিষয়গুলো তুলে ধরেন। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে, কি / কী এর যথার্থ প্রয়োগ, ড্যাশ (--) ও হাইফেন (-) এর ব্যবহার, শব্দে স /ষ এর প্রয়োগ, ভালোবাসা কিংবা ভালবাসা বানানের বিভেদ। একপর্যায়ে সহমত এবং দ্বিমত নিয়ে আলোচনায় অনুষ্ঠানে গতি সঞ্চার হয়।

পরবর্তী আলোচক গবেষক সুরজিৎ রায় মজুমদার এবং লেখক ও গবেষক ফরিদ আহমেদ বাংলাভাষার বানানের পরিবর্তনের শুরুর কাল এবং যে বানান গুলোতে দ্বিমত রয়েছে সেগুলো ব্যাখ্যা করেন। নিয়মিত এই বিষয়গুলো জানা ও চর্চার মাধ্যমে এর ধারাবাহিক সংশোধন হবে বলে তাঁরা আশাপোষণ করেন। আলোচক কবি মেহরাব রহমান বাংলাভাষার বানান ছাড়াও সঠিক উচ্চারণের ওপর গুরুত্বআরোপ করেন।

আয়োজনটির সার্বিক সঞ্চালনায় ছিলেন শিউলী জাহান। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী অতিথিগণ হলেন  আকবর হোসেন, আকতার হোসেন, আসমা হক, ইসরাত জাহান নেলী, এলিনা মিতা, খালেদ শামীম, জাভেদ ইকবাল, জামানা হাসিনা, জালাল কবির, দিল আফরোজ, নাসির আবেদীন, বাদল ঘোষ, বিদ্যুৎ সরকার, মৌসুমী সাহা, রাখাল সরকার, রেজা অনিরুদ্ধ, রোসনারা বেগম, রোজানা নাসরীন, সাখা নির্বাণা, সূচনা দাস বাঁধন এবং সৈকত রুশদী।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই টরন্টো প্রবাসী সদ্য প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা মাহফুজুল বারীর প্রতি সংগঠনটির পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা  এবং এই কর্মশালার আয়োজন তাঁর স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিবেদন করা হয়।

শুদ্ধভাবে বাংলা লেখা কর্মশালার  উদ্দেশ্য এবং প্রয়োজনীয়তার উপর সংক্ষিপ্ত আলোকপাত এবং কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী অতিথিবৃন্দের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব। পরিচিতি পর্বের পরে হালকা খাবার ও পানীয় দিয়ে পারস্পরিক সৌজন্য বিনিময়ের মাধ্যমে আয়োজনটি  প্রাণবন্ত হয়ে উঠে।

প্রত্যেকেই তাঁদের মন্তব্যে এ ধরনের কর্মশালার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন -  বিশেষত প্রবাসে যখন হাতের কাছে সঠিক অভিধানটির অভাব ভীষণভাবে অনুভূত হয় এবং কম্পিটারে বা ডিজিটাল মাধ্যমে লিখতে গিয়ে প্রকৃত শব্দ কিংবা বানানটি পেতে অসুবিধা হয়ে যায়। তাছাড়া বানানের ক্রমাগত পরিবর্তনের ধারায় অনেক দৈনন্দিন বানানের ব্যাপারেও দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়; সেই বিষয়গুলো নিয়ে বিজ্ঞজনদের সাথে আলোচনা এবং পারস্পরিক মত বিনিময়ের মাধ্যমে একটি পরিষ্কার ধারণা নেয়ার জন্য এ ধরণের কর্মশালা কার্যকরী বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।

কর্মশালার সমাপ্তিতে সুব্রত কুমার দাস এ-কর্মশালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং  টরন্টো তথা কানাডাতে বাঙালিদের বাংলাভাষায় লেখা ও চর্চায় এমন আয়োজন একটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করেন।

০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ০৯:৫২:৪৭