অনবদ্য কুয়েট ফ্যামিলি নাইট
হাসান জামান খান
অ+ অ-প্রিন্ট
শীত এখনো জেঁকে বসেনি। তবু হিমেল হাওয়া বইছিলো সকাল থেকে। তাতে কী আর প্রকৌশলী পরিবারের আনন্দমিলন থেমে থাকে?  কুয়েট পরিবারের সদস্যরা ঠিকই দলে বলে হাজির রয়্যাল কানাডিয়ান লিজিয়ন হলে। সুপরিসর ব্যাংকুয়েট হলের পুরোটাই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে আটটা বাজার আগেই। শ'দেড়েক প্রকৌশলী পরিবার আর কমিউনিটির গন্যমান্য অতিথিবৃন্দের উজ্জ্বল উপস্থিতিতে জমজমাট আকার ধারণ করে 'কুয়েট ফ্যামিলি নাইট'। গেলো শনিবার সন্ধ্যায় খুলনা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) থেকে পাশ করা প্রকৌশলীদের সংগঠন কুয়েট এলামনাই এসোসিয়েশন অব কানাডা আয়োজন করে এ মহতী অনুষ্ঠানের। অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসাবে উপস্থিত ছিলেন এনআরবি টিভির প্রধান নির্বাহী, সাপ্তাহিক বাংলা মেইল এবং জনপ্রিয় অনলাইন পত্রিকা বেঙ্গলি ডটকমের সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মিন্টু এবং রায়েরসন বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও কম্পিউটার কৌশল বিভাগের অধ্যাপক প্রকৌশলী ড. এস আর করিম।  এছাড়াও প্রথমবারের মতো এ অনুষ্ঠিত একত্রে আমন্ত্রিত হয়েছিলেন এবিইও (এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশী ইঞ্জিনিয়ার্স ইন অন্টারিও), বুয়েট এলামনাই, চুয়েট এলামনাই ও রুয়েট এলামনাইয়ের সম্মানিত সভাপতিগণ। যদিও সকলের পক্ষে অনুষ্ঠানে যোগদান সম্ভব হয়নি। অনবদ্য কুয়েট ফ্যামিলি নাইট
অনবদ্য কুয়েট ফ্যামিলি নাইট
অনবদ্য কুয়েট ফ্যামিলি নাইট

সন্ধ্যা সাতটা থেকেই আমন্ত্রিত অতিথিদের স্বাগত জানান সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী নওশের আলী। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের শুরুতেই মঞ্চে উঠে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন সংগঠনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রকৌশলী বিপ্লব কর্মকার। সমবেত কণ্ঠে দেশাত্মবোধক 'পূর্ব দিগন্তে সূর্য উঠেছে' গানেও নেতৃত্ব দেন তিনি। ছোট্ট সোনামনি টরন্টোর পরিচিত মুখ প্রকৌশলী কন্যা অংকিতা কর্মকারের 'আমি জাদু জানি' গানটি মুগ্ধ করে সকলকে। এছাড়া প্রকৌশলী পরিবারের সদস্য নম্রতা দেবনাথ, শাকি ও বিনীতা কর্মকারের গান, নাজহা খান বিল্লাহ ও চুড়ি রহমানের নৃত্য, প্রকৌশলীদের আঞ্চলিক ভাষায় খবর পাঠ, দম্পত্তিদের গানের সাথে ঠোঁট মিলানো, রম্য নাটক দর্শকদের রকমারি আনন্দ দেন করে।   সংগঠনের লোগো তৈরী প্রতিযোগিতার ফলাফল অফিসিয়ালি ঘোষণা করা হয় এ অনুষ্ঠানে। সাংগাঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী খালেদ চৌধুরী করা লোগোটি সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত হয়। তাঁর হাতে পুরষ্কার তুলে দেন দুই গেস্ট অব অনার শহিদুল ইসলাম মিন্টু এবং ড. এস আর করিম। অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধান ও অতিথি আপ্যায়নে বর্তমান সভাপতি প্রকৌশলী মাসুকুর রসূল, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রকৌশলী শেখ ফারুক হোসেন এবং সাবেক সভাপতি প্রকৌশলী রহমতউল্লাহ হাবিব,  কোষাধ্যক্ষ প্রকৌশলী মফিজুর রহমান অংশ নেন। ফটোগ্রাফি ও ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচার করে বাংলাদেশে সকলকে অনুষ্ঠান দেখার সুযোগ করে দেন প্রকৌশলী আবু সাঈদ। প্রকৌশলী আসিফ রিজওয়ান চমৎকার ছবি তুলে সবাইকে তাকে লাগিয়ে দেন। আর পুরো অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় দায়িত্ব সুচারুরূপে সম্পন্ন করেন মেধাবী দুই তরুণ প্রকৌশলী আতিক ও নওরীন। অনুষ্ঠানের শেষ চমক ছিলো টরন্টোর নতুন সেনসেশন শিল্পী মহুয়া পারিয়ালের গান।  তিনি একে একে জনপ্রিয় বাংলা এবং হিন্দি গান গেয়ে পুরো হল আনন্দে মাতিয়ে তোলেন। নাচের তালে সুস্বাদু খাবারের ভুঁড়িভোজনটা বাড়ি ফেরার আগেই হজম হয়ে যায় সবার। কেবল তৃপ্তির ঢেকুরটুকুই সঙ্গে থাকে। এমন ঢেকুর তুলতে আবার এক বছর চেয়ে থাকতে হবে যে!

 

০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬ ১১:১৪:৫৫